রাজধানীতে লকডাউনের প্রথম দিন

রাস্তাঘাট ফাঁকা, সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০১ জুলাই ২০২১, ১৩:৩৪আপডেট : ০১ জুলাই ২০২১, ১৪:৩১

সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে সকাল ৬টা থেকে। বিধিনিষেধ চলাকালে রাজধানীর রাস্তা-ঘাট ফাঁকা হয়ে পড়ে। সেনা সদস্যদের টহলসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বেরিয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাইরে আসা লোকদের জরুরি প্রয়োজন খতিয়ে দেখেছে।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই চিত্র দেখা গেছে।

কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোলা ছিল ওষুধসহ কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান।  যেসব দোকান খোলা বেশি প্রয়োজনীয় নয় সেগুলো সকালেই পুলিশ অনুরোধ করে বন্ধ করে দিয়েছে। বিভিন্ন আবাসিক এলাকার মধ্যে গেট টেনে রিকশাসহ অন্যান্য গাড়ি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন মহল্লাবাসী।

মোহাম্মদপুরে বন্ধ করে রাখা হয় আবাসিক এলাকার সড়কের গেট

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শিয়া সমজিদ মোড়ে দায়িত্বপালন করা পুলিশের এসআই মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘সন্দেহ হলেই জরুরি প্রয়োজন খতিয়ে দেখছি। বিনা প্রয়োজনে কেউ বাইরে বের না হোক কিংবা গ্যাদারিং যেন না করা হয়‑  সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।  

তবে এতো কিছুর মধ্যেই কিছু মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। সকাল থেকে রাজধানীর মোহাম্মদ এলাকায় মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

লাকডাউনের বিধিনিষেধ মানতে করা হচ্ছে মাইকিং

মোহাম্মদপুর বসিলার প্রধান সড়কে জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার সামনে ট্রাকসেলে সূলভমূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রি করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। তবে ট্রাক সেলে যারা লাইন ধরে নিত্যপণ্য কিনছেন তারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল, আটাসহ অন্যান্য পণ্য কিনছেন। অনেকে মাস্ক ব্যবহার করেননি। এই ট্রাক সেলের আশেপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখা যায়নি।

ট্রাকসেলে নিত্যপণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়ানো লোকের ভিড়

কঠোর লকডউনে খোলা ছিল তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা। মিরপুরে মন্টিল এ্যাপারেল ও ভিশন গার্মেন্টে শ্রমিকরা ঢুকেছে সকালেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদের ঢুকতে দেখা গেলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে, ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়িভাবে মানা হচ্ছে না। তৈরি পোশাক খাতে কাজ করা একজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, করোনার এই সময়ে কাজের পরিধি বেড়েছে। আগে আমরা রাত ৮টায় বাড়ি যাইতাম আর এখন রাত সাড়ে ১০টায় ছুটি পাই।

সকালে কাজে যোগ দিতে হন পোশাকশ্রমিকরা

রাজধানীর বড় মগবাজার থেকে নয়াটোলা পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে মানুষদের মধ্যে। বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিতরা সকালে যে যার গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার কারণে অনেক রিকশাচালক রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রীর অপেক্ষায়।  অনেক রিকশাচালককে মাস্ক না পরার কারণে পুলিশ অল্প সময়ের জন্য আটকে রেখে ছেড়ে দিচ্ছে।

মিরপুর ১১, ৬ ও ৭ নম্বর সেকশন ঘুরে দেখা গেছে, বিধিনিষেধ অনেকটাই শিথিল। রাস্তায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম থাকলেও রিকশার উপস্থিতি বেশি। ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস চলতে দেখা গেছে। এসব এলাকা ঘুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও টহল চোখে পডেনি। লকডাউনকে সামনে রেখে বুধবার (৩০ জুন) দুপুর থেকে এলাকাগুলোতে মাইকিং করা হয়।

তবে লকডাউনে ভিন্ন চিত্র দেখা গেলো মিরপুর ৭ নম্বর সেকশনে। সেকশনের রাস্তাগুলোতে মানুষের আনাগোনা বেশি ছিল। ভ্যানে ভ্যানে সবজি বিক্রি হচ্ছে। ২ নম্বর সড়কে লোকজন চায়ের স্টলে বসে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। এদের অনেকেরই মাস্ক নেই।

খিলগাঁও, বাসাবো ও রাজারবাগ এলাকায় লকডাউনের আওতামুক্ত ছাড়া সব ধরণের দোকানপাট বন্ধ দেখা গেছে। রাস্তা-ঘাটে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও তেমন একটা দেখা যায়নি। মাঝেমধ্যে পুলিশকে এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে।

খিলগাঁও এলাকায় মোটরসাইকেলচালককে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ

সকাল থেকে খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় বেশ কয়েকজন ‍পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। তারা সড়কে বের হওয়ার কারণ জানতে চাচ্ছেন। উপযুক্ত কারণ না দেখাতে পারলে তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া ওই সড়কে স্কাউটের স্বেচ্ছাসেবকদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

পুলিশ সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছি। বিনা কারণে কেউ বাসা থেকে বের হলে তাকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে এই এলাকায় যেহেতু একটি কাঁচাবাজার রয়েছে অনেকেই সেখানে বাজার করতে আসেন। এর বাইরে কাউকে যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না।

সকাল থেকে কলাবাগান এলাকার প্রধান সড়কগুলো বেশ ফাঁকা দেখা যায়। এসময় অল্প সংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় চলছিল। তাছাড়া রিকশা ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত পরিবহনের সংখ্যা সেই তুলনায় বেশি। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সিগন্যালে পুলিশের চেকপোস্ট দেখা যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসকের গাড়ি পরিচয় দেওয়া মাত্র ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য গাড়ি থামিয়ে পরিচয়পত্র দেখে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রধান সড়কের তুলনায় মানুষের আনাগোনা বেশি অলিগলিতে। কেউ নিত্যপণ্য নিতে বেরিয়েছেন কেউবা নাস্তা কিনতে হোটেলের সামনে ভিড় জমিয়েছেন।

ফাঁকা মতিঝিল এলাকা

রাজধানীর মতিঝিল, সায়েদাবাদ টার্মিনালসহ ওই এলাকার প্রধান রাস্তা সকাল থেকে ফাঁকা। সড়কে আইন-শৃ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।

ছবি: সাদ্দিফ অভি, নাসিরুল ইসলাম, শাহেদ শফিক, এম এ হিটলার, এস এম আব্বাস, ফয়সাল ইসলাম রাজীব।

/এসএমএ/এমএস/
সম্পর্কিত
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর
মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির পূর্বাভাস ঢাকায়, কমতে পারে গরম
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম