করোনাভাইরাসের টিকা নিতে টানা তিন দিন লাইনে দাঁড়িয়েছেন সকিনা আক্তার। রাজধানীর মিরপুরের কল্যাণপুর গালর্স স্কুলের টিকা কেন্দ্রে লম্বা লাইনে ৪-৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। শেষ দিন ৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিতে পেরেছেন তিনি। টিকা নিতে তাকে লাইনে দাঁড়াতে হলেও অনেকেই লাইন ছাড়াই টিকা নিয়ে যাচ্ছেন; যারা কিনা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের পরিচিত কিংবা দলীয় নেতাকর্মী বা তাদের স্বজন। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার পরও সেই ওয়ার্ডের ভোটার না হওয়ায় অনেককেই ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (১১ আগস্ট) সকিনা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৩-৪ দিন ধরে আসছি, লাইনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু টিকা দিতে পারিনি। আমাদের সামনে দিয়ে পরে এসেও কত লোক টিকা দিয়ে গেছে। আজকে ভোর থেকে এসে দাঁড়িয়েছিলাম, অবশেষে টিকা দিতে পেরেছি।’
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কল্যাণপুর গালর্স স্কুলে ভোর ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন টিকা নিতে আগ্রহীরা। তবে দৈনিক ৩৫০ ডোজ করে টিকা দেওয়া হয়, বাকিদের ফিরে যেতে হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে গেলেও কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবকরা স্থানীয় ওয়ার্ডের ভোটার না হলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। শত শত মানুষ লাইনে দাঁড়ালেও ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেওয়ান আবদুল মান্নানের পরিচিত, দলীয় নেতাকর্মী, নেতাকর্মীদের স্বজনরা এলে লাইন ছাড়াই মুহূর্তেই টিকা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সকালে লাইনে দাঁড়ানো মানুষের সিরিয়াল দেওয়া হলেও দেওয়ান আবদুল মান্নানের পরিচিতরা সিরিয়াল পেয়ে যাচ্ছেন আগের দিনেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘ওয়ার্ড কাউন্সিলের নির্দেশ রয়েছে, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার না হলে টিকা না দিতে। এ জন্য ১১ নম্বরের ওয়ার্ডের ভোটারের বাইরে কেউ এলে তাদের বলা হচ্ছে, তিনি যেখানে ভোটার সেখানে যেতে।’
১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও রাফসানা বেগম বরিশালের ভোটার। তাই তাকে টিকা কেন্দ্র থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘টিকার জন্য ঘোষণায় তো বলা হয়েছে আইডি কার্ড নিয়ে যেতে, আমার আইডি কার্ড আছে তাও টিকা দেয়নি। বললো আমি যেখানে ভোটার সেখানে যেতে। আমার পক্ষে তো আর এখন বরিশাল যাওয়া সম্ভব না।’
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর মঙ্গলবার পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে এক কোটি ৯৬ লাখ ৭১ হাজার ৬২০ ডোজ। এর মধ্যে এক ডোজ নিয়েছেন এক কোটি ৪৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৪৭ জন এবং টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন ৪৯ লাখ ২ হাজার ১৭৩ জন। এগুলো দেওয়া হয়েছে অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকা, চীনের তৈরি সিনোফার্ম, ফাইজার এবং মডার্নার ভ্যাকসিন।
এদিকে টিকা নেওয়ার জন্য মসজিদের মাইকে প্রচার করা হচ্ছে, জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে টিকা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য। গণমাধ্যমের সংবাদ দেখেও অনেকেই যাচ্ছেন টিকা কেন্দ্রে। তবে স্থানীয় ভোটার না হওয়ায় অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেওয়ান আবদুল মান্নানকে একাধিকবার টেলিফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।








