অনেক যাত্রী সঠিক তথ্য না জানার কারণে বিমানবন্দরে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা গন্তব্য ও এয়ালাইনসের বিধিনিষেধের ব্যাপারে জানেন না বলে বিপাকে পড়েন। কোয়ারেন্টিনের হোটেল বুকিং, সময়মতো বিমানবন্দরে না আসা, করোনা পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দরকারি তথ্য জানা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। সোমবার (৪ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১-এর বহির্গমন কনফারেন্স হলে গণশুনানিতে বেশ কয়েকজন যাত্রী নিজেদের এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর আয়োজন করে।
হালিমা আক্তার নামের একজন যাত্রীর অভিযোগ, তাকে সৌদি আরব যেতে দেওয়া হয়নি। আজ সকাল ১০টায় তার ফ্লাইট ছিল। তিনি করোনার দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন। তবুও তিনি যেতে পারেননি। তার জানা ছিল না- টিকা নেওয়ার ১৪ দিন আগে সৌদি আরবে হোটেল বুকিং দিতে হয়।
হালিমার অভিযোগ প্রসঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘এটি সৌদি আরব সরকারের শর্ত যে, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার ১৪ দিন পর দেশটিতে যাওয়া যাবে। আর একডোজ নিলে সৌদিতে গিয়ে পাঁচদিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।’
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা মো. মোস্তফা ২০ বছর ধরে দুবাইয়ে প্রবাসীকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তার প্রশ্ন ছিল- পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপালের চেয়ে বাংলাদেশের এয়ারলাইনসগুলোর টিকিটের দাম এত বেশি কেন? বেবিচক চেয়ারম্যানের উত্তর, ‘আমরা যারা নিয়মিত চলাফেরা করি, এই অভিযোগ সবারই। দুবাইগামী এয়ারলাইনসগুলোর ভাড়া অন্য দেশের তুলনায় বেশি। এ বিষয়ে এয়ারলাইনসগুলোর বক্তব্য হলো- বাংলাদেশের জেট ফুয়েলের দাম বেশি। এ কারণে টিকিটের দামও বেশি।’
মোহাম্মদ ফারুক সৌদি আরবে থাকাকালে করোনা প্রতিরোধক একডোজ টিকা নিয়েছেন। এরপর দেশে এসে আরেক ডোজের টিকা দিতে পারছেন না। গণশুনানিতে তিনি এ বিষয়ে প্রতিকার চাইলে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘আমি প্রবাসী এবং সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে আরেকটি টিকা নেওয়া যাবে। টিকা নেওয়ার ১৪ দিন পর তিনি সৌদি আরব যেতে পারবেন এবং তার টিকার সনদ অনলাইনে সৌদি কর্তৃপক্ষকে পাঠাতে হবে।’
বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন করে থাকে বেবিচক। এবারের আয়োজনে আরও ছিলেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসানসহ বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।









