রাজধানীর গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের টয়লেটের মধ্যেই খাবার হোটেল বসানোর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বিরুদ্ধে। হোটেল মালিক ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, খাবার হোটেলটি থেকে দৈনিক ছয় হাজার হিসাবে মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি হয়, যার পুরোটাই চলে যায় কর্মকর্তাদের পকেটে।
তারা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর হোটেল চললেও ব্যবস্থা নেন না শীর্ষ কর্মকর্তারা। চলতি মাসে কয়েকবার সরেজমিন যান এই প্রতিবেদক। সর্বশেষ গত ১৭ ডিসেম্বর গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের দুই নম্বর গেটের কাছে গণশৌচাগারের প্রবেশদ্বারের পাশেই চেয়ার টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছেন অনেকে।
একটু সামনে এগোলেই গণশৌচাগার থেকে ওঠা-নামার জায়গা, যেখান দিয়ে মানুষ শৌচাগারে ঢুকছেন আর বের হচ্ছেন। সঙ্গে লাগোয়া চেয়ার টেবিলে খাবার খাচ্ছে মানুষ। আর এর মাঝেই রান্না হচ্ছে মাছ, ভাত, মাংস ও সবজি।
এই হোটেলের ক্রেতাদের শৌচাগারের পানি ব্যবহার করতে দেখা যায়। টয়লেট কাম হোটেলে ঢুকে কথা হয় হোটেল মালিক আবদুল খালেকের সঙ্গে। তিনি জানান, গণশৌচাগার তৈরির আগ থেকেই এখানে দোকান চালান। এখানে কত খরচ হয় জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, প্রতিদিন ছয় হাজার টাকা দেন ক্রীড়া পরিষদকে।
টয়লেট সংলগ্ন দোকানের মালিক ও ক্রীড়া পরিষদ সংশ্লিষ্টরা জানান, এই চাঁদার টাকা লাইনম্যানের মাধ্যমে পরিষদের বড় কর্তারা পান। তাই বিষয়টি বারবার মিডিয়ায় আসার পরও এটা সরানো হয় না। টয়লেট ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, টয়লেটের প্রবেশপথে হোটেল থাকা অস্বাস্থ্যকর ও অরুচিকর।
হোটেলে খেতে এসেছিলেন সাদিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, টয়লেটের প্রবেশপথে খাবার হোটেল। রুচিতে বাধলো তাই ঢুকলাম না খেতে। যারা খাবার খাচ্ছে তাদের কী অবস্থা হয় তারাই ভালো জানেন।
তিনি বলেন, ক্রীড়া পরিষদের অফিসের এত কাছে বসে টয়লেটকে হোটেল কীভাবে বানানো হলো এটা একটা বিস্ময়।
বিষয়টি নিয়ে গত রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) কথা হয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (প্রশাসন) শেখ শামীম হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, পাবলিক টয়লেটে কোনও হোটেল ইজারা দেওয়া হয়নি। হোটেল আছে কিনা আমার জানা নেই।
টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানান, তিনি কোনও টাকা পান না কিংবা টয়লেটের ইজারাদারও এটা চালাচ্ছেন না। তিনি বলেন, এটা আগামীকালই আমি দেখবো।
যদিও মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) সেখানে গিয়ে একই চিত্র দেখা যায়।
এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব পরিমল সিংহ জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন।
তিনি বলেন, আগে কেউ আমাকে বিষয়টি নলেজে দেয়নি। বিষয়টি আমি নোট রাখলাম। এখন তো অফিস আওয়ার শেষ। আগামীকালই এটা সরিয়ে ফেলবো।









