দেশের যোগাযোগব্যবস্থার এক আধুনিক সংযোজন মেট্রোরেল। তাই এবার ঈদের ছুটিতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার মানুষের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার তালিকায় ছিল এই বাহনটি। কিন্তু ঈদের ছুটিতে কর্তৃপক্ষ মেট্রোরেল চলাচলের সময় বেঁধে দেওয়ায় হতাশ হয়েছেন অনেকেই।
নির্ধারিত সময়ে ভ্রমণ করতে অনেক মানুষ ভিড় করেছে মেট্রোরেলে। এতে টিকিট সংগ্রহ করতে ভোগান্তি নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে যাত্রীদের। আবার সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় মেট্রোরেল ভ্রমণপ্রত্যাশীদের মন খারাপ করে ফিরে যেতে হয়েছে। তাই যাত্রীরা দাবি জানিয়েছেন, পুরোপুরি চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তত ছুটির দিনগুলোয় সারা দিন যেন মেট্রোরেল চলাচল করে।
সোমবার (২৪ এপ্রিল) মেট্রোরেল স্টেশনগুলোয় সরজমিনে দেখা যায়, ঈদের ছুটির প্রথম দুদিনের মতো তৃতীয় দিনও উপচে পড়া ভিড় ছিল। স্টেশন গেট খোলার আগের থেকেই বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন যাত্রীরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সাভার, গাজীপুর ডেমরা, দনিয়া, চিটাগাং রোডসহ ঢাকার নানা প্রান্ত থেকে অনেকেই প্রথমবারের মতো মেট্রোরেলে চড়তে এসেছেন।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশই যাত্রীই পূর্বপরিকল্পনা করে মেট্রোরেল ভ্রমণ করতে এসেছেন। ঈদের ছুটিতে তারা বরাবর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে ঘুরতে যান, কিন্তু এবার তালিকায় রেখেছেন মেট্রোরেলকে। কেননা সরকারের যে কয়েকটি আধুনিক ও মেগা প্রকল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল, তার একটি মেট্রোরেল। তাই তারা স্বচক্ষে দেখতে এসেছেন নিজ দেশের এই উন্নয়নকে।
সাভারের আমিনবাজার থেকে এসেছেন তরিকুল ইসলাম। মেট্রোরেলে চড়তে সকালেই রওনা দেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু কিছুটা দেরি হয়ে গেছে। ভেবেছেন প্রথমে মেট্রোরেলে ভ্রমণ করবেন, পরে সুযোগ পেলে যাবেন ঢাকার অন্য কোনও বিনোদনকেন্দ্রে।
তরিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি, মেট্রোরেলে নাকি অনেক ভিড় থাকে। তাই আগেই চলে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আসতে আসতে ১১টা বেজে গেছে। এসে দেখি মানুষ আর মানুষ। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়নি কিন্তু স্টেশনের ভেতরে টিকিট কাটার জন্য অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি। দ্রুত মেট্রোরেল দেখে আবার অন্য কোথাও যাবো।’
অল্প সময়ের জন্য মেট্রোরেল চালু রাখা হয়েছে বলেই এত ভিড় মন্তব্য করে পরিবার নিয়ে নাখালপাড়া থেকে আগারগাঁও স্টেশনে আসা আবদুল রউফ বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন মেট্রোরেল চালু হয়েছে। ঈদে মানুষজন এইখানে ঘুরতে আসবে, এইটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে সময় বেঁধে দিয়েছে। ঘুরতে হলে এই সময়ের মধ্যেই ঘুরতে হবে সবাইকে। এখন একসঙ্গে সবাই এলে তো ভিড় হবেই। তবে মানুষের কথা ভাবার দরকার ছিল।’
অন্তত ঈদের ছুটিতে সারা দিন মেট্রোরেল চালু রাখলে সমস্যা হতো না জানিয়ে আবদুল রউফ বলেন, ‘সারা দিন চালু থাকলে মানুষ এই ভিড়ে দাঁড়িয়ে না থেকে অন্য জায়গাগুলো ঘুরে তারপর মেট্রোরেলে চড়তে আসতো। একেক সময় একেকজন আসতো, তখন আর এই ভিড় হতো না।’
এদিকে মেট্রোরেলের চলাচলের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ভ্রমণ করার সুযোগ হয়নি অনেকের। অনেকে আবার মেট্রোরেলের চলাচলের এই সময় জানেন না। দূরদূরান্ত থেকে পরিবার নিয়ে এসে সময়সূচি জানতে পেরে হতাশা প্রকাশ করে ফিরে যান।
মেট্রোরেলে ভ্রমণ করার সুযোগ না পেয়ে ফেরত যাওয়া একজন মাসুম তানভির। পরিবার নিয়ে রাজধানীর ঢাকা উদ্যান পরিদর্শন শেষে মেট্রোরেল ভ্রমণ করতে এসেছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মাসুম তানভির বলেন, ‘আমাদের তো আর মেট্রোরেলে কোনও কাজ নাই। তবু পরিবার নিয়ে আসছি সময় করে যে বাংলাদেশের আধুনিক মেট্রোরেল দেখবো। এসে দেখি বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদের দিন তো মানুষ আসবেই ঘুরতে, এই চিন্তা কি তাদের মাথায় রাখা দরকার ছিল না? এমন তো না যে মেট্রোরেল সারা জীবন এ রকম সময় করে চলাচল কবে। সব সময়ের জন্য তো চালু করবেই তারা। তাহলে ঈদের দিনগুলোয় অন্তত সন্ধ্যা পর্যন্ত তো চালু রাখতে পারতো।’
এ বিষয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. ইফতেখার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে অবগত আছি। প্রতিদিনই আমরা খোঁজ নিচ্ছি। মেট্রোরেলের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করছি। মেট্রোরেল যেহেতু রাষ্ট্রের সম্পদ, তাই এর যেন কোনও ধরনের ক্ষতি না হয়, সেই বিষয়গুলোও আমাদের গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হয়।’








