‘আমার সন্তানদের তো আর ফিরে পাবো না। কিন্তু এই ধরনের কেমিক্যাল দেশে এলো কী করে, তা সরকারের কাছে জানতে চাই। আমি চাই না আমার মতো আর কোনও সন্তানের বাবা-মা এমন ঘটনার মুখোমুখি হন। বাবার সামনে সন্তানের মৃত্যু ভীষণ কষ্টের।’
শুক্রবার (১৬ জুন) উত্তরায় অবস্থিত ডিপিএসের (দিল্লি পাবলিক স্কুল) সামনে জাহিন-জায়ান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক মানববন্ধনে নিহত জাহিন জায়ানের বাবা এসব কথা বলেন।
মৃত দুই সন্তানের বাবা মোবারক হোসেন বলেন, এই কীটনাশক নিশ্চয় বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে। তাহলে এর ক্ষতিকর দিকগুলো যাচাই-বাছাই না করে কেন এটা দেশে আমদানি করে আনলো?
মানববন্ধনে উপস্থিত অভিভাবক আরিফুর রহমান বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে গ্রেড এইটে পড়তো জাহিন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার চাই। আমি চাই না আর কোনও অভিভাবক এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়ুন। এটা তেলাপোকা মারার বিষ যদি হয়, তাহলে এত বড় ঘটনা ঘটতো না। এর আমদানিতে কোনও ত্রুটি আছে কিনা আমি সরকারকে অনুরোধ করবো খতিয়ে দেখতে।
আরেক অভিভাবক জামান বলেন, এ ঘটনার পর থানায় একটা মামলা হয়েছে। আমি চাই সেটা যেন হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার দায়ে তাদের যেন বিচার হয়।
অভিভাবক আব্দুল মান্নান বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে জাহিন পড়তো। আমাদের সঙ্গে তাদের পারিবারিক সম্পর্কও ভালো। প্রতিদিন দেখা হতো। এখন স্কুলে এলে মনটা একেবারে ভেঙে যায়।
প্রসঙ্গত, গত ৪ জুন ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন তুষারের দুই ছেলে শাহিল মোবারত জায়ান (৯) ও শায়েন মোবারত জাহিনের (১৫) মৃত্যু হয়। ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তুষারের বাড়িতে দেওয়া ‘তেলাপোকা মারার ওষুধ’ দিয়ে পেস্ট কন্ট্রোল করলে বিষক্রিয়ায় মারা যায় তার এই দুই সন্তান।
এ ঘটনায় রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করলে পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ডিসিএস অর্গানাইজেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান ও এমডি ফরহাদুল আমীনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান।
মোবারক হোসেন ঢাকা রয়েল ক্লাব লিমিটেডের (উত্তরা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
আরও পড়ুন:
তেলাপোকা মারার ওষুধে ২ ভাইয়ের মৃত্যু: কোম্পানির এমডি-চেয়ারম্যান রিমান্ডে









