দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবার-পরিজনের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিপণিবিতানগুলোর পাশাপাশি ইতোমধ্যেই নগরব্যাপী জমে উঠেছে ফুটপাতের ঈদের বেচাকেনা।
শনিবার (২২ মার্চ) পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সব বয়সী নারী-পুরুষের জন্য বাহারি রঙের বিভিন্ন ডিজাইনের জামা-কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতের এই এলাকায়। রাস্তার পাশে বসা সারি সারি দোকান থেকে পছন্দমতো জামা-কাপড় ও শার্ট কিনছেন নগরবাসী। শুধু শ্রমজীবী বা নিম্ন আয়ের মানুষই নয়, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের কেনাকাটার প্রিয় ঠিকানা হয়ে উঠেছে এই ফুটপাত।
পোশাক থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সবকিছু পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতে। বিশেষ করে শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, জুতা, বেল্ট, লুঙ্গি, ট্রাউজার, পায়জামা, টি-শার্ট, ঘড়ি, শাড়ি, মানিব্যাগ, চশমা, শিশুদের পোশাক সবই মেলে, যা অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় সস্তা।
ফুটপাতের বিক্রেতারা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বেচাকেনা ভালো জম উঠেছে। তবে এ সপ্তাহে অর্থাৎ রোজার শেষ মুহূর্তে ঢাকা ছাড়া স্বল্প আয়ের মানুষের আনাগোনায় আরও বেশি জমে উঠবে। গতবারের তুলনায় এবারের বেচাকেনা কিছুটা স্বস্তিদায়ক বলেও জানান অনেক বিক্রেতা।
হারিস মিয়া নামে এক বিক্রেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার বেচাকেনা মোটামুটি ভালো। তবে দুই-তিন দিন পর আরও বাড়বে। এখানে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় পাঞ্জাবি, ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিভিন্ন ধরনের পায়জামা, ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় শার্ট, ২০০-৩০০ টাকায় শার্ট ও প্যান্ট, ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় জুতা এবং ৩০০ টাকায় লুঙ্গি বিক্রি হচ্ছে।
মোরসালিন নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘বেচাকেনা স্বাভাবিক রয়েছে। হিসাব করলে বেচাকেনা আগের মতোই আছে। তবে এবার জামা-কাপড় কেনাতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। আগে এক লট মাল কিনতাম ১২ হাজার টাকা দিয়ে, এখন সেই মাল ১৫ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে।’ ২৫ থেকে ২৯ রমজানের দিকে বেচাকেনা বেশি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুলের সামনে থেকে পরিবারের সবার জন্য ঈদের পোশাক কিনছিলেন জয়নাব বেগম নামে একজন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘মার্কেটের তুলনায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে কম দামে জামা-কাপড় পাওয়া যায়। বাজেটের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে এখান থেকে জামা-কাপড় কিনতে পারি। আমাদের মতো নিম্ন মধ্যবিত্তদের একমাত্র ভরসা এই ফুটপাত।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন কাপড়ের দাম একটু বেশি। গত বছর ১ হাজার টাকার মধ্যে তিন ছেলে-মেয়ের জন্য জামা-কাপড় নিয়েছিলাম। এবার আরও বাড়তি টাকা লেগেছে। ব্যবসায়ীরা এলোমেলো দাম চায়। তবুও ফুটপাত হওয়ায় দামাদামি করে কেনা যাচ্ছে।’
লাকি আক্তার নামে আরেকজন বলেন, ‘মার্কেটে যে থ্রি পিসের হাজার টাকা দাম, ফুটপাত থেকে সেটা চার-পাঁচশ’ টাকা দিয়ে কেনা যায়। জামা-জুতোসহ সব ধরনের জিনিসপত্র কিছুটা সস্তায় কেনা যায়। তবে ঈদের বাজার হওয়ায় দাম একটু বেশি।’
লক্ষ্মী বাজারের মুসলিম হাইস্কুলের সামনে থেকে দেখেশুনে ছেলের জন্য প্যান্ট কিনেছিলেন রিকশাচালক মোতালেব হোসেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘ছেলে ক্লাস ফোরে পড়ে। এই ঈদে তাকে নতুন শার্ট প্যান্ট দিতে হবে। একটা শার্ট কিনেছি ২০০ টাকা দিয়ে। প্যান্ট কোনোভাবেই ৩০০ টাকার কমে দিতে চাচ্ছে না। তাই দামাদামি করছি।’
দাম বেশি রাখার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলেন, বছরে দুবার ঈদ আসে। এ সময় একটু দাম বেশি না রাখলে, আর কোন সময় রাখবো? আমাদেরও পরিবার আছে। তাছাড়া আগের তুলনায় মালামাল এখন কিছুটা বেশি দামে কিনতে হয়।
আমির হোসেন নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘বেচাকেনা যাইহোক, দৈনিক তিনশ’ টাকা লাইনম্যানসহ সবাইকে চাঁদা দিতে হয়। তাছাড়া আরও দুইশ’ টাকা বাড়তি খরচ আছে। খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে দাম একটু বাড়তি রাখতে হয়।’








