বেইলি রোডে আরেকটি গ্রিন কটেজ ট্র্যাজেডির মতো ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার শপিংটি ১০ তলা ভবনে মার্কেট, অফিস, আবাসিকসহ মাল্টিপল ব্যবহার হচ্ছে। ভবনটির বেজমেন্টে গাড়ির গ্যারেজ থাকার কথা থাকলেও সেখানে সিলিন্ডার ও জেনারেটর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, জেনারেটরের পয়েন্ট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের কাজ শুরুতে ব্যাহত হয়, ৫-৬ তলা পর্যন্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।’
সোমবার (৫ মে) রাত পৌনে ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার শপিং মলের আগুন নিয়ন্ত্রণে পর ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এরআগে সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ভবনের বেজমেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৭টা ৪৭ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ভবনে অবস্থানরত নারী-শিশুসহ ১৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তাদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৯ জন নারী এবং ২ জন শিশু রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান শেষে ফায়ার কর্মকর্তা লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, ভবনের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ছিল না। আগুন নির্বাপণে বেইলি রোডের একটি পুকুরের পানি ব্যবহার করতে হয়েছে। ভবনটিতে নিয়মের অনেক ব্যত্যয় রয়েছে।
তিনি বলেন, ভবনটি একটি মিক্সড অকুপ্যান্ট বিল্ডিং ছিল। এখানে শপিং মল, রেস্তোরাঁ, অফিস ও আবাসিক ইউনিট ছিল। আবাসিক ইউনিটের বেশ কিছু ফ্ল্যাট খালি থাকলেও, সব মিলিয়ে ভবনের ভেতরে প্রায় ২০০ জন মানুষ অবস্থান করছিল। এর মধ্যে নিচতলার বিভিন্ন স্থানে থাকা প্রায় ১০০ জনকে আমরা নিরাপদে বের করে আনতে পেরেছি।
তাজুল ইসলাম বলেন, শুরুর দিকে প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে আমাদের কাজ করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জনগণ সহযোগিতা করেছেন, আমাদের নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ওয়াসা—সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, আমি একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই— বেইলি রোডে অবস্থিত একটি পুকুর আমাদের আগেও, যেমনটা গ্রিন কোজি কটেজে ঘটনার সময় করেছিল, এবারও গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছে। ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টারের এই অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলাতেও ওই পুকুর থেকেই পানি নিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভবনের মালিকপক্ষ নিয়ম ভেঙে বেজমেন্টে অতিরিক্ত লিফটের জন্য ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিল, যা থেকেই আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বেজমেন্টে থাকা গাড়ি ও মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, এনএসআইসহ বিভিন্ন সংস্থা আগুন নেভানোর ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়।
সিরাজ টাওয়ারের নিরাপত্তাকর্মী শহীদুল ইসলাম জানান, ডিউটিতে যোগ দিতে বাসা থেকে রওনা দিচ্ছিলাম, এমন সময় আগুন লাগার খবর পাই। দৌড়ে এসে দেখি ভবনের নিচতলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া। আগুন সম্ভবত জেনারেটর বা বৈদ্যুতিক লাইন থেকে লেগেছে।









