স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ও বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে কারও বিরোধিতা কাজে আসবে না। সবকিছুই রাজনৈতিক দলগুলোর ঠিকাদারি দেওয়া হয়নি। সারা দেশের মানুষ উৎসাহ নিয়ে ভোটে নেমে পড়বে। এতে এক ধরনের ভারসাম্য আসবে। কারণ তৃণমূলে জনপ্রতিনিধি না থাকায় জনগণ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সরকার চাইলে ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে একটি সুন্দর নির্বাচন করতে পারে।
শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) উদ্যোগে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে প্রস্তাবিত জাতীয় সনদ সম্পর্কে নাগরিক ভাবনা বিষয়ক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকার কেন স্থানীয় সরকার বাতিল করেছেন—প্রশ্ন করে ড. তোফায়েল বলেন, যারা পালিয়েছে, পালিয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই সেসব প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখা যেতো। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হওয়ার কথা ছিল। কারণ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিশৃঙ্খলার শঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকলে অন্তত কিছু এলাকা সামাল দেওয়া যেতো।
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদের নির্বাচনের পক্ষে ৮৬ শতাংশ মানুষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের একটি একীভূত আইন থাকার দরকার। প্রস্তাবিত সংস্কারের পর আইনগুলো ৬ মাসের মধ্যে করতে হবে। পরবর্তী সময়ে বাদ দিলে জনগণ দেখবে।
সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. তোফায়েল বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও সিভিল সোসাইটিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। শুধু রাজনীতিবিদদের প্রাধান্য দেওয়ায়—তা মতানৈক্য কমিশনে পরিণত হয়েছে। অথচ সব কিছুর ঠিকাদারি রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া হয়নি।
সংলাপে সুজনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিচারপতি এম এ মতিন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. ইফতেখারুজ্জামান ও সাবেক সচিব আব্দুল আওয়াল মজুমদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সঞ্চালনা করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।








