ঢাকার কেরানীগঞ্জের আকরাম গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর পলাতক রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক আকরাম মিয়া। তার খোঁজ করছে পুলিশ। আকরাম কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে কারখানার কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধান করছেন স্বজনরা। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া কারখানার সামনে স্বজনরা ভিড় করছেন।
কুলসুম বেগম নামের এক নারী বলেন, তারা গোলামবাজার এলাকায় থাকেন। তার ছেলে নাঈম (১৭) ঢাকার কেরানীগঞ্জের আগুনে পুড়ে যাওয়া আকরাম গ্যাসলাইটার কারখানায় তিন মাস আগে যোগ দেয়। আজ (শনিবার) সকাল আটটার দিকে কাজের উদ্দেশে ছেলে বের হয়। আগুন লাগার পর থেকে তার খোঁজ নেই।
কুলসুম বেগমের মতো সন্তানের জন্য কারখানার সামনে অপেক্ষা করছিলেন কাওসার সরদার নামের আরেক ব্যক্তি। তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে মনিরাও এ কারখানায় কাজ করে। কাওসার সরদার বলেন, ‘‘প্রায় এক বছর ধরে আমার মেয়ে কারখানাটিতে কাজ করছিল। প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও সে কাজে যায়। পরে লোকমুখে জানতে পারি এখানে আগুন লেগেছে। দ্রুত এসে মেয়ের খোঁজ করছি। কিন্তু কোনও খোঁজ পাচ্ছি না।’’
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকার কারখানাটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট গিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে তা সম্পূর্ণভাবে নেভানো হয়।
অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানার ভেতর থেকে পাঁচ শ্রমিকের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো এতটাই পুড়েছে যে, নারী না পুরুষ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
স্থানীয়রা বলছেন, কারখানাটিতে ৩৫ থেকে ৪০ জন কাজ করতেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর ঠিক কতজন নিখোঁজ আছেন, তা এখনো কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
তারা জানান, প্রায় দুই বছর আগে কারখানাটিতে একবার অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। পরে প্রশাসন সেটি বন্ধ করে দেয়। মাসখানেক পর ফের তারা কারখানার কার্যক্রম শুরু করে। কারখানাটিতে প্রায় ৪০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। আজ দুপুরের দিকে হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ডিপজল গলি এলাকার বাসিন্দা রমিজ মিয়া বলেন, ওপরে টিনশেড আর চারপাশে দেয়াল দিয়ে কারখানাটি তৈরি করা হয়েছে। এর ভেতরেই আটটি গুদাম ছিল। যেখানে গ্যাসলাইটারের কাঁচামাল রাখা হতো।
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কারখানায় কতজন কাজ করতো তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। ঘটনার পর থেকে কারখানার মালিক পলাতক রয়েছেন।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত কারখানার ভেতর থেকে পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, ‘‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমাদের সাতটি ইউনিট দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে কারখানা থেকে পাঁচ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।’’








