জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
আলী ইমামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ছেলে ডা. অন্তু বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসযন্ত্রে, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগে ভুগছিলেন আলী ইমাম। গত ১০ দিন ধরে বাংলাদেশ মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ২০২১ সালের মে মাসে মৃদু স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে অসুস্থ ছিলেন তিনি। তার দাফনের ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
পরিবার জানিয়েছে, মঙ্গলবার ফজর নামাজের পর ধানমন্ডি ৭ নম্বর সড়কের বায়তুল আমান মসজিদে আলী ইমামের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে তার মরদেহ। বাদ জোহর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাদ আছর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।
ছয় শতাধিক বইয়ের লেখক আলী ইমাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। লেখালেখির বাইরেও বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া চ্যানেল ওয়ানে (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপকসহ একাধিক স্যাটেলাইট টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
আলী ইমাম বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া’ (১৯৮০-১৯৮৭) প্রযোজনা, ১৯৯৮-২০০৪ সাল ইউনিসেফের ‘মা ও শিশুর উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম প্রকল্প’র পরিচালক ছিলেন। ওই সময়ে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও ব্রাজিলে হওয়া ‘চিলড্রেন মিডিয়া সামিটে’ অংশ নেন তিনি।
এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান ‘হ্যালো, আপনাকে বলছি’র (১৯৯৯-২০০৪) উপস্থাপক, ২০০০-২০০১ সালে ‘সার্ক অডিও ভিজুয়াল বিনিময় অনুষ্ঠানে’র প্রধান সমন্বয়কারী এবং টেলিভিশন ও বেতারে শিক্ষামূলক নানা অনুষ্ঠানের নির্মাতা ও উপস্থাপক ছিলেন আলী ইমাম।
আলী ইমাম শিশু সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে ২০০৪ সালে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে দেশটি ঘুরে দেখেন তিনি।









