শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তৎপরতা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির নজরদারি নেই

এস এম আববাস
১৩ জানুয়ারি ২০১৭, ১০:০৬আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৭, ১৮:৪৩

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ থাকলেও এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মতো প্রতিষ্ঠানের নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই। রাজধানীর ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জঙ্গি তৎপরতার নিরাপদ স্থান হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাব্যস্ত করলেও খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) এখনও এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য জানানো হয়নি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এমনকি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে নানা ঘটনা থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠানকেও গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেনি মন্ত্রণালয়।
রাজধানীর ২০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জঙ্গি তৎপরতার নিরাপদ স্থান— এমন তথ্যের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৭ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গোয়েন্দা তথ্যসহ আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক কোনও চিঠি দেয়নি সুনির্দিষ্টভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইউজিসি, মাধ্যমিকের জন্য জন্য মাউশি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মহাপরিচালককে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে মনিটরিংয়ের ফলাফল কী তা জানাতে পারেনি মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আমরা গণমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি এবং সে অনুযায়ী সতর্ক রয়েছি। জঙ্গি তৎপতার নিয়ে ইউজিসি, মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা করছি।’
গোয়েন্দা তথ্যে ঢাবি বিজনেস অনুষদকে জঙ্গি তৎপরতার নিরাপদ স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আমরা বিষয়টি দেখতাম। তবে আমরা নিজেদের মতো করেই মনিটরিং করছি সব সময়।’
এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বেসরকারি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেল গঠন করতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নজরদারি করছে।’ যদিও অভিযোগ ওঠা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রকৃতপক্ষে কোনও সেল নেই। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, উচ্চ পর্যায়ের কমিটি রয়েছে বিষয়টি দেখার জন্য।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-১) এ কে এম জাকির হোসেন ভূঁঞা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় দুই ভাগ হওয়ার কারণে মনিটরিংয়ের সর্বশেষ অবস্থা জানানো যাচ্ছে না।’
যুগ্মসচিব (উচ্চশিক্ষা) লায়লা আরজুমান্দ বানু বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবস্থা নিতে ইউজিসিকে বলা হয়েছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এখনও কোনও প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ইউজিসি এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছে।’
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাশফিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন সময় ইউজিসি থেকে পাঠানো বিভিন্ন পত্রে জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।’ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি বলে জানান রেজিস্ট্রার।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলাল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার জানা মতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনও চিঠি দেয়নি। তবে চিঠি দিক বা না দিক আমরা আমাদের মতো করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এমনিতে একটি বদনাম হয়েছে, সে কারণে আমরা এ ব্যাপরে সতর্ক।’
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে জঙ্গি তৎপরতার নিরাপদ স্থান হিসাবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তৎপরতায় উদ্বুদ্ধ করাসহ মৌলবাদী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও জড়িত রয়েছেন জঙ্গি তৎপরতায়। জঙ্গিবাদের পক্ষে উসকানিমূলক কাজে ইন্ধনও দেওয়া হয় বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়, চিহ্নিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক শ্রেণির ছাত্র ও শিক্ষক উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়েছেন। তারা টার্গেট করে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট, ভিডিও ফুটেজ, জিহাদি বই, জিহাদি বক্তব্যসংবলিত অডিও’র মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জঙ্গি কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে পর্যবেক্ষণ জোরদার, শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবকদের জঙ্গিবিরোধী আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতন করার কথা বলা হয়েছে।
ছাত্র-ছাত্রীরা কোনও যৌক্তিক কারণ ছাড়া ১৫ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তাদের সম্পর্কে নিকটবর্তী থানা ও গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য জানাতে সুপারিশ করা হয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। উঠতি বয়সী যুবক নিখোঁজ হলে তা অনুসন্ধান করে নিখোঁজের ছবি, মোবাইল নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করা এবং ভাড়াটিয়াদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে নিশ্চিত হয়ে ভাড়া দিতে সতর্ক করা হয়।

আরও পড়ুন-

‘মাদকমুক্ত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনে ডোপ টেস্ট চালু করা হবে’

আলাদা হচ্ছে শিশু আদালত



/টিএন/টিআর/

সম্পর্কিত
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন ব্যাংক ও এমএফএসের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ 
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের থেকে বেতন নিলে শাস্তির মুখে পড়বে প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
কালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীদের জন্য সুখবরকালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী