শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনা: বিচারের মুখোমুখি সেলিম ওসমান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ মার্চ ২০১৭, ০৩:২৪আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৭, ০৩:৩০

নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত স্বপ্রণোদিত একটি অভিযোগ নিয়মিত মামলা আকারে আমলে নিয়ে বিচার শুরু করেছে। বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের পেশকার আবদুল্লাহ আল মামুন।

সেলিম ওসমান ও শ্যামলকান্তি ভক্ত
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিতের ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সেলিম ওসমান এবং মো. অপুর বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত একটি অভিযোগ নিয়মিত মামলা আকারে নেওয়া হচ্ছে। আর সেজন্য গত ১৯ মার্চ ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম জেসমিন আরা আগামি ২৯ মার্চের মধ্যে অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান ও অপুর নাম ঠিকানার পূর্ণ বিবরণ সরবরাহ করতে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছনার ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছিল। লাঞ্ছনার প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশ অভিযোগ সত্য নয় বলে নারায়ণগঞ্জের আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছিল। গত ২২ জানুয়ারি বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহন করে প্রতিবেদনটি নারায়ণগঞ্জের আদালত থেকে ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগটি স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার ওপর বিচার বিভাগীয় তদন্ত করেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম শেখ হাফিজুর রহমান।

এ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌশুলি আনোয়ারুল কবির বাবুল জানান, হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কোনও কর্মচারী অথবা সংশ্লিষ্ট পুলিশের কোনও কর্মকর্তা এ নালিশি মামলার বাদি হওয়ার পদ্ধতি আইনে বেধে দেওয়া আছে। আদালতের ক্ষমতা রয়েছে সংশ্লিষ্ট কাউকে কোর্টের প্রতিনিধি হয়ে বাদি হিসাবে গণ্য করার। বিচারক জেসমিন আরার কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নালিশি মামলা করার জন্য এ নথিপত্র পৌঁছায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি।

হাইকোর্ট আদেশে বলেছিলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে, দেশের আইন নিরপেক্ষ ও বৈষম্য ছাড়া প্রয়োগ করা। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন, সবাই আইনের অধীন। বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা ওই ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। বিচারের স্বার্থে এটি যথাযথ বলে প্রতীয়মান হয়।’

মোট ৬৫ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্তি হিসেবে আরও নথিপত্র রয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তকালে মোট ২৭ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়। গত ১৯ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম শেখ হাফিজুর রহমান ওই প্রতিবেদন হলফনামা আকারে দাখিল করেন। বিচারক শেখ হাফিজুর প্রতিবেদনে ছয়টি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।

এর আগে, ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জের স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় পুলিশ প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে পুরো ঘটনা বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ২০১৬ সালের ১৩ মে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লাঞ্ছিত করা হয়। মাজিক যোগাযোগের ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান সেদিন ওই শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের এই সদস্য কোনও ‘ভুল করেননি’ দাবি করে ক্ষমা চাইতেও অস্বীকার করেন।

/এসআইটি/এমও/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান