জাকাত দিয়ে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

Send
তাসকিনা ইয়াসমিন
প্রকাশিত : ২২:১৩, জুন ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৩, জুন ১২, ২০১৮

জাকাত দিয়ে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর বিজ্ঞাপন

রাসেল গাজী একজন মাছ বিক্রেতা। তার তিন সন্তানের মধ্যে দুজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত। বড় মেয়ে তানজিলা গাজীর তিন মাস বয়সে থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ে, তারপর থেকে চলছে চিকিৎসা। এখন তার বয়স ১০ বছর। ছোট ছেলে সালমান গাজীরও প্রতি মাসে রক্ত লাগছে। দুই সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হতে বসেছেন রাসেল গাজী। তিনি তার দুই সন্তানের জন্য বিত্তবানদের কাছে সাহায্য চান। আর এ সাহায্য তাকে সরাসরি দিতে হবে না। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ডে দিলেই তার সন্তানরা সুচিকিৎসা পাবে।

মাহমুদুর রহমান সায়মন (৮) এর আড়াই মাস বয়সে থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ে। তার মা শাহীনুর রহমান ও বাবা মো. মাইনুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের আরেক সন্তান মাত্র এক মাস বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। এখন থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা নেই কিন্তু এরা কতটা করবে? টাকা কম আর রোগী তো অনেক। সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসত তো এখানে আমার সন্তানের মতো আরও অনেক সন্তান সুচিকিৎসা পেত। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়, তাই সবাইকে এই রোগ প্রতিরোধে এগিয়ে আসার জন্য বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন এই দম্পত্তি।

ছয় বছরের তানিয়া তামান্নার থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ে দেড় বছর বয়সে। তারপর থেকে তানিয়ার বাবা-মায়ের সবকিছু যেন থমকে গেছে।

বেসরকারী চাকরিজীবী মো. নেসার উদ্দিন প্রতি মাসে রক্ত দিতে মেয়েকে নিয়ে নরসিংদী থেকে ঢাকায় আসেন। মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নেসার উদ্দিন দম্পতি আজ নিঃস্ব।

শুধু সোহেল গাজী, মো. নেসার উদ্দিন  নয় তার সন্তানদের মতো প্রায় ২ হাজার ৫শ’ জন শিশুকে চিকিৎসা সহায়তা দেয় বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন। থ্যালাসেমিয়ার মতো ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে সমাজের বিত্তবানদের যাকাতের অর্থ চায় এই সংগঠনটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশের ৭ ভাগ জনগণ থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। দেশে ১ কোটি ১০ লাখ থ্যালাসেমিয়া বাহক রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১৪ জনে ১ জন থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। প্রতি বছর ৭ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

থ্যালাসেমিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬০ হাজার থ্যালাসেমিয়া রোগী রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে প্রকাশিত ২০০৯ সালের হেলথ বুলেটিনে  দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ১ থেকে ৪ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা দশ বছরে।

বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. মো. আবদুর রহিম বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইলে বলেন, আমরা ২০০৮ সাল থেকে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য যাকাত ফান্ডের মাধ্যমে অর্থ তুলি। ধীরে ধীরে আমাদের এখানে জাকাত দেওয়ার পরিমাণ বাড়ছে। আমাদের এখানে অনলাইন, বিকাশ এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও সরাসরি এসে অর্থ দেওয়া যায়। যারা সরাসরি দেখে বিশ্বাস করে অর্থ দিতে চান তারা অফিসে এসে দিয়ে যান।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে থ্যালাসেমিয়ার যে রোগীরা আসে তাদেরকে মাসে কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকার ঔষধ দিতে হয়। সারাদেশ থেকেই আমাদের কাছে রোগী আসে। অসুস্থ শিশুদের নিয়ে আসার পর দেখা যায়, মা-বাবারা বলে যে তাদের আর চিকিৎসা করার সামর্থ্য নেই। আমরা প্রতিবছর ঈদের সময় জাকাতের অর্থ সহায়তা চাই। যে অর্থ আসে তা দিয়ে সারাবছর শিশুদের চিকিৎসা সহায়তা দেই।

তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগ যেহেতু অত্যন্ত ব্যয়বহুল তাই এই রোগের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে বেশিরভাগ পরিবারই নিঃস্ব হয়ে যায়। সমাজের বিত্তবানরা পাশে দাঁড়ালে এই  রোগে আক্রান্ত শিশুগুলো সুচিকিৎসা পাবে।

জাকাতের অর্থ যেভাবে দেওয়া যাবে : অনলাইনে ভিসা বা মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে www.thals.org/zakat, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন (যাকাত ফান্ড)

অ্যাকাউন্ট নং- ১০০৭২৭৬২৯৩০০১

আই.এফ.আই.সি ব্যাংক, শান্তিনগর শাখা, ঢাকা - এই ঠিকানায় এবং বিকাশের মাধ্যমে দান করতে 01729284257 নম্বরে টাকা পাঠানো যাবে। এক্ষেত্রে বিকাশ মেনুর ‘Payment’ অপশন ব্যবহার করতে হবে।

 

 

/এমএ/ টিএন/

লাইভ

টপ