খুনের মামলায় আসামি হয়ে ভারতে ভুল বিচারের শিকার বাদল ফরাজীকে কারামুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানির জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ জুলাই) দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (৯ জুলাই) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির এ দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার কাউছার।
এর আগে গত ৮ জুলাই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন দাখিল করা হয়। ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার কাউছার ওই রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনে বাদল ফরাজীকে জেলখানায় আটক রাখা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইজি প্রিজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
বাদল ফরাজীকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ওই দুই আইনজীবী গত ৮ জুলাই বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের আদালতের নজরে আনেন। তারা এ ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা চান। তবে আদালত তাদের রিট আবেদন করার পরামর্শ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই দুই আইনজীবী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন দাখিল করেন।
ব্যারিস্টারর হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, বাদল ফরাজীর পরিচয় নিয়েই সেখানে প্রশ্ন রয়েছে। ভারতের আদালত তাকে বাদল সিং হিসেবে ধরে নিয়ে বিচার করেছে। সেখানে ভুল বিচারের শিকার বাদল ফরাজী। এটা স্বীকার করে নিয়েছে দুই দেশের সরকারই। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ কারণে আইনের দৃষ্টিতে বাদল ফরাজী নির্দোষ ব্যক্তি। তাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা হলেও কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। কিন্তু, নির্দোষ ব্যক্তিকে কেন কারাগারে রাখা হবে? এ কারণে রিট আবেদন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৮ সালের ৬ মে দিল্লির অমর কলোনির এক বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় দিল্লির পুলিশ বাদল সিং নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছিল। এ অবস্থায় ওই বছরের ১৩ জুলাই ট্যুরিস্ট ভিসায় বেনাপোল সীমান্ত পার হওয়ার পরপরই ওই বৃদ্ধা হত্যা মামলায় বাদল ফরাজীকে গ্রেফতার করে ভারতের পুলিশ। বাদল সিং মনে করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সেখানে বিচার শেষে তাকে ওই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি ভারতের বিহার কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন।
পরে ভারতীয় একটি বেসরকারি সংস্থা বাদল ফরাজীর ঘটনা জানতে পেরে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। তারা ঢাকার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ অবস্থায় সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে ৬ জুলাই দেশে ফেরত আনে। কিন্তু, তাকে মুক্তি না দিয়ে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। অর্থাৎ বিনা দোষে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ভারতের কারাগার থেকে বাংলাদেশের কারাগারে স্থানান্তর হয়েছেন বাদল ফরাজী কিন্তু মুক্তি পাননি।








