দেশীয় পদ্ধতিতেই ভাঙা হচ্ছে বিজিএমইএ ভবন

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১৯:০৪, মে ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৭, মে ০১, ২০১৯





বিজিএমইএ ভবনরাজধানীর হাতিরঝলে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে কন্ট্রোল ডিমোলেশন বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তাব কোনও প্রতিষ্ঠান দেয়নি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—রাজউক এ-সংক্রান্ত দরপত্র পুনরায় আহ্বানও করবে না। ফলে ভবন দেশীয় বা সনাতনী পদ্ধতিতেই ভাঙা হচ্ছে ভবনটি।
রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প বাস্তবায়ন) ও হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দরপত্র পেয়েছি। তাদের অভিজ্ঞতা সনদপত্র যাচাই-বাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে সিগন্যাল পেলে নিয়ম অনুযায়ী কার্যাদেশ দেওয়া হবে। কার্যাদেশ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পুরো ভবনটি ভেঙে মালামাল সরিয়ে নিতে হবে।’ ভবনটি ভাঙার টেন্ডারে সর্বোচ্চ কত টাকা দর পড়েছে জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে রাজি হননি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যে কয়টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে তাদের কারোই কন্ট্রোল ডিমোলেশন বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নেই। সে কারণেই দেশীয় প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করেই ভবনটি ভাঙা হবে। আমরা টেন্ডার নোটিশে বলে দিয়েছি যদি ভবন ভাঙতে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে বা কেউ হতাহত হয় তাহলে এর দায় রাজউক নেবে না এবং ভবন ভাঙার জন্যও রাজউক কোনও অর্থ দেবে না। পুরো ভবন ভাঙার পর ব্যবহারযোগ্য মালামাল বিক্রি করে তারা তাদের খরচ ও লাভ পুষিয়ে নেবে।
গত ১৭ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দেয় রাজউক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভবন ভাঙার কাজে পারদর্শী আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আবেদন করতে হবে। ভবনটি ভেঙে তিন মাসের মধ্যে অপসারণ করতে হবে। এ জন্য কোনও অর্থ দেবে না রাজউক। যারা ভবন ভাঙবে, তারাই মালামাল ক্রয়ের দরপত্র দাখিল করতে পারবে। ভবন ভাঙার সময় যদি কোনও ব্যক্তি আঘাত পান বা নিহত হন, সে দায়ভার রাজউক নেবে না।
উল্লেখ্য, নিয়মনীতি না মেনে পোশাকশিল্প মালিকদের তৈরি করা বিজিএমইএ ভবনকে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট ‘হাতিরঝিল প্রকল্পের ক্যানসার’ বলেন। এ-সংক্রান্ত মামলায় বিজিএমইএ’কে নিজ খরচে ভবনটি ভাঙার রায় দেন আদালত। এরই ধারবাহিকতায় রাজউকের পক্ষ থেকে ১৬ এপ্রিল ভবনটিতে সিলগালা করে দেয় রাজউক।এরপর ভাঙার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।
এদিকে, ঢাকার উত্তরায় ১১০ কাঠা জমির ওপর ১৩ তলা নতুন ভবন তৈরি করছে বিজিএমইএ। সম্প্রতি ভবনটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন...

দেশীয় পদ্ধতিতেও ভাঙা হতে পারে বিজিএমইএ ভবন

/এইচআই/

লাইভ

টপ