ডাটাবেজে যুক্ত হয়েছে আরও দেড় লাখ নাগরিকের তথ্য

Send
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
প্রকাশিত : ১২:৫৮, জুন ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১৯, জুন ২৩, ২০১৯

ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম

অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে রাজধানীজুড়ে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ-২০১৯’ কর্মসূচির মাধ্যমে এ দফায় আরও দেড় লাখ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। আগের সংগৃহীত তথ্যসহ এ পর্যন্ত মোট ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার নাগরিকের তথ্য সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিআইএমএস) ডাটাবেজে নিবন্ধন করা হয়েছে। 

রাজধানীর ৫০টি থানায় বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কেউ যাতে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে জোর নজরদারি করা হচ্ছে।

নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ শুরুর আগে ডিএমপির তরফে জানানো হয়েছিল, ১৩ জুন পর্যন্ত রাজধানীতে বসবাসকারী ২২ লাখ পরিবারের মোট ৬৩ লাখ সদস্যের তথ্য ওই সফটওয়্যারে সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে বাড়িওয়ালা আছেন ২ লাখ ৪১ হাজার ৫০৭ জন, ভাড়াটিয়া ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯৪ জন, মেস সদস্য ১ লাখ ২১ হাজার ৪০ জন, অন্যান্য ১১০০ জন। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮২১ জন ও ড্রাইভার বা গৃহকর্মী  আছেন ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৪ জন।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-মিডিয়া) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর নতুন করে সিআইএমএস ডাটাবেজে যুক্ত হয়েছে আরও দেড় লাখ নাগরিকের তথ্য।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আগের তুলনায় মানুষ অনেক সচেতন হয়েছে। আমরা তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখেছি, সাধারণ মানুষ হাসিমুখে তথ্য দিচ্ছে। কারণ, তারা  নিরাপদে থাকতে চায়। তাই নিজেরাই প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া, ড্রাইভার, গৃহকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভাড়াটিয়াদের তথ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, রাজধানীর ভাড়াটিয়াদের স্থানীয় ঠিকানায় খোঁজখবর বা যাচাই-বাছাই আপাতত করা হচ্ছে না। এটি পরবর্তী সময়ে করা করা হবে।

রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা মো. আদনান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার তথ্য পুলিশের কাছে থাকলে আমরা সবাই নিরাপদে থাকবো। এতে নগরীর অপরাধ অনেক কমে যাবে। তবে পুলিশ যেসব তথ্য সংগ্রহ করছে, সেগুলো প্রতিনিয়ত আপডেট করতে হবে। কারণ, নগরীতে ভাড়াটিয়ার সংখ্যাই বেশি।’

হাতিরঝিল এলাকার বাসিন্দা ইসতিয়াক আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে ঠিকই, কিন্তু যারা দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে ঢাকায় এসেছেন, তাদের তথ্যগুলো সঠিক কিনা, সেটি যাচাই করা হচ্ছে না। মূলত ভাসমান নাগরিকের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হলে কাজটি আরও ভালো হবে।’

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহে সবাই পুলিশকে সহযোগিতা করছেন। সবাই চান ঝামেলামুক্ত থাকতে, তাই প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো নিজে থেকেই তারা পুলিশকে দিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া, ড্রাইভার, গৃহকর্মীর তথ্য সংগ্রহ করছি। এর আগে যাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, এবার তাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব তথ্য সংগ্রহ করছি। এতে সহজে কেউ অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারবে না। যদি কেউ অপরাধ করে, তবে সহজে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

ডাটাবেজে যুক্ত হচ্ছেন বস্তির বাসিন্দারাও

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত ‘বস্তি শুমারি ও ভাসমান লোকগণনা জরিপ-২০১৪’ অনুযায়ী রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট তিন হাজার ৩৯৪টি বস্তি রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে রয়েছে ১৬৩৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রয়েছে ১৭৫৫টি বস্তি। এসব বস্তিতে মোট ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৭৫ মানুষের বসবাস।

বস্তিগুলোতেই ভাসমান লোকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। তারা দীর্ঘদিন এক জায়গায় বসবাস করে না। তবে নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহে এসব বস্তিতে বসবাসকারীদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে পুলিশ।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বস্তিগুলোতে ভাসমান মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে অপরাধীরা সহজেই এখানে নিজেদের আশ্রয় গড়ে তোলে। এরপর অপরাধ সংঘটিত করার পর তারা সেখান থেকে অন্য জায়গায় পালিয়ে যায়। আগে এসব ভাসমান মানুষের তথ্য পুলিশের কাছে থাকতো না। তবে এখন তাদের তথ্যও পুলিশের কাছে রাখা হবে। তাই রাজধানীর বস্তিগুলোর বাসিন্দাদেরও ভাড়াটিয়া হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। 

রাজধানীর কড়াইল বস্তির বৌ-বাজারের বাসিন্দা মো. শাহ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিদিন পুলিশ আসছে, মাইকিং করে সবাইকে তথ্য দেওয়ার জন্য বলছেন থানার স্যারেরা। আমরা আগেরবারও তথ্য দিয়েছি। তবে কিছুদিন পরপর থানার বড় স্যারেরা আসেন এবং বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে ভাড়াটিয়াদের তথ্য নিয়ে যান।’

মহাখালীর সাততলা বস্তির বাসিন্দা (ভাড়াটিয়া) প্রেম আনন্দ বলেন, ‘এই বস্তির বাসিন্দারা সবাই তাদের তথ্য থানায় জমা দিচ্ছে। আমিও দিয়েছি, কারণ, আমি অপরাধী না। তাই আমার তথ্য পুলিশকে দিতে কোনও ভয় নাই। যারা তথ্য দিচ্ছে না, তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয় বলেই ধরে নিতে হবে।’  


/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ