কাউন্সিলর রাজীবের মোহাম্মদপুরের বাসায় র‌্যাবের অভিযান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৩:০৭, অক্টোবর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১৮, অক্টোবর ২০, ২০১৯



ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তারেকুজ্জামান রাজীবকে সঙ্গে নিয়ে তার মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার চার নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়িতে পরিচালিত অভিযানে রাজীব গ্রেফতার হন। রাত ১১টার পর থেকে র‌্যাব সদস্যরা তার মোহাম্মদপুরের বাড়ির চারপাশে অবস্থান নেন। রাত সাড়ে ১২টার পর রাজীবকে নিয়ে মোহাম্মদপুরে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বসুন্ধরায় গ্রেফতারের পর রাজীবকে নিয়ে এসে তার মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালানো হচ্ছে।  

এরআগে, র‌্যাব-২ এর সিও আশিক বিল্লাহ জানিয়েছিলেন, কাউন্সিলর রাজীবের মোহাম্মদপুরে ১ নম্বর রোডের, ৩৩ নম্বর বাসাটি র‌্যাব সদস্যরা ঘিরে রেখেছেন। রাজীবের উপস্থিতিতে সেখানে অভিযান চালানো হবে।

এদিকে রাজীব গ্রেফতারের পর তাৎক্ষণিক এক ব্রিফিংয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্সিলর রাজীবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা আজ ৯টার দিকে জানতে পারি, রাজীব বসুন্ধরায় তার বন্ধুর বাসায় আত্মগোপন করে আছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হল সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি এবং দখলদারিত্ব।

তিনি আরও বলেন, অভিযানে বাসা থেকে বিদেশি মদের সাতটি বোতল, একটি অবৈধ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, নগদ ৩৩ হাজার টাকা ও একটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। রাজীব অস্ত্রের কোনও কাগজপত্র আমাদের দেখাতে পারেননি, এটি অবৈধ অস্ত্র।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, ‘চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার চার নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়িটির সপ্তম তলায় অভিযান চালানো হয়।’

গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর থেকে গডফাদারসহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট, যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা জি কে শামীমসহ অনেকের বাসা ও কার্যালয়ে তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাসিনোয় অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০১ জনকে আর্থিক জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যেই সিটি করপোরেশন এলাকার কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দখল, চাঁদাবাজি করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কাউন্সিলরদের কেউ কেউ সরাসরি ক্যাসিনো কারবারের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। অভিযানের পরপরই অনেকেই পালিয়ে দেশ ছেড়ে গেছেন। মোহাম্মদপুরের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবও গত দুই সপ্তাহ ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। র‌্যাব সদর দফতর ও র‌্যাব-২ এর একটি যৌথ দল তাকে নজরদারি করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টং দোকানদার থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ, চন্দ্রিমা হাউজিং, সাত মসজিদ হাউজিং, ঢাকা উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে রাজীবের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে প্রবাসীদের বাসাসহ এলাকার অনেকের জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে মোহাম্মদপুর এলাকায় তার একাধিক বাড়ি, জমি ও একাধিক বিলাসবহুল গাড়ির মালিক তিনি। সাবেক একজন প্রতিমন্ত্রীর হাত ধরে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া রাজীব ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর পদে জয়লাভ করেন। এরপর থেকেই মূলত ভাগ্য আরও খুলে যায় তার।

 

/এসজেএ/টিটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ