সাইবার অপরাধ ঠেকাতে কতটা সক্ষম পুলিশ?

Send
জামাল উদ্দিন ও শেখ জাহাঙ্গীর আলম
প্রকাশিত : ০৭:৫৯, অক্টোবর ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০১, অক্টোবর ২৭, ২০১৯





 দেশে সাইবার অপরাধ মনিটরিং ও প্রতিরোধে এখনও পুলিশ পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থার সহায়তায় সীমিত সামর্থ্য দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আর বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে পুলিশ সদর দফতর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দফতর। পাশাপাশি সারাদেশের পুলিশের রেঞ্জ, বিভাগ ও জেলাগুলোয় নিজেদের ব্যবস্থাপনায় একজন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে কাজ করছে ‘সাইবার ক্রাইম মনিটর ইউনিট’। তবে, বড় ধরনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের সহযোগিতা নেয় এসব ইউনিট। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।



জানতে চাইলে সিটিটিসির ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের’ অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি বিভাগে যে পরিমাণ জনবল আছে, তা দিয়ে আপাতত কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে, আগামী দিনে সাইবার অপরাধের পরিধি আরও বাড়তে পারে। তখন জনবল আরও বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় বর্তমানে ঢাকার বাইরেও সাইবার অপরাধ বাড়ছে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি, থানাগুলোয় সাইবার পুলিশিং থাকা দরকার।’
নাজমুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলার পুলিশ সদস্যদের ঢাকায় এনে সাইবার অপরাধ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের প্রাথমিকভাবে কাজ করার জন্য সক্ষম করে তোলা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না। জেলাগুলোয় সাইবার ইউনিটের অবকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া, পুলিশ সদর দফতরের অধীনে আলাদা একটি সাইবার পুলিশ ব্যুরো গড়ে তোলা প্রয়োজন। যেখানে একজন অ্যাডিশনাল আইজিপির নেতৃত্বে পুলিশ সুপাররা জেলায় জেলায় কাজ করবেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘আমাদের দক্ষ লোকের অভাব আছে। তবু, এরমধ্যে মোটামুটি দক্ষদের দিয়েই কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। সাইবার অপরাধীদের ওপর মনিটরিং করছি। এসব ক্ষেত্রে আগাম তথ্য পাওয়া যায় না। কে কী পোস্ট করবে, সেটা আগে থেকে জানা যায় না। তবে, কেউ খারাপ কিছু পোস্ট করলে তাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়।’
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘প্রত্যেক জেলায় একটি করে সাইবার ইউনিট আছে। আমরা সব সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণ করি। জঙ্গি কর্মকাণ্ডের খবর পেলে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করি। আর স্থানীয়ভাবে না পারলে সদর দফতরের সহযোগিতা নেই। জানানোর প্রয়োজন হলে সেটা জানাই। এভাবেই আমরা সাইবার অপরাধের কার্যক্রম মনিটরিং করি। ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ থাকে। যেমন পঞ্চগড়ের যেসব গ্রুফ আছে, সেগুলো মোটামুটি আগে দেখার সুযোগ থাকে।’
সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা এত বেশি নয়। তাদের কিছু প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। তবে, ঢাকায় যেভাবে করতে পারে, সেভাবে করতে পারি না।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার সক্ষমতা নিয়ে জানতে চাইলে সাইবার বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘সাইবার অপরাধ তদন্তের জন্য যে প্রযুক্তিগত ও আইন প্রয়োজন, তার কোনোটিতেই বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশের তৃণমূল পর্যায়ে সাইবার অপরাধ দমনের জন্য আলাদা ইউনিট ও ডিজিটাল ল্যাবের প্রয়োজন রয়েছে। সাইবার অপরাধের আলামত সংগ্রহ করার যে পদ্ধতি রয়েছে, সে বিষয়টিও পুলিশ সদস্যরা সঠিকভাবে জানেন না। সেজন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করার মতো আরও দক্ষ পুলিশ সদস্য তৈরি করতে হবে। কারণ, ঢাকায় কিছু দক্ষ পুলিশ সদস্য থাকলেও বাইরের জেলাগুলোয় অভাব রয়েছে।’
পুলিশের ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিডিএমএস) পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৩ সালে ৩৫টি ও ২০১৪ সালে ৬৫টি, ২০১৫ সালে সাইবার অপরাধবিষয়ক মামলা হয়েছে ৫৯৭টি। ২০১৬ সালে ৮৭৯টি, ২০১৭ সালে এক হাজার ২৮টি এবং ২০১৮ সালে এক হাজার ৫৫টি মামলা। সবমিলিয়ে ছয় বছরে সারাদেশে তিন হাজার ৬৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে ঢাকায় সাইবার অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে ৯১২টি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ৮৯টি এবং ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ১৫৭টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই দুই বছরে সাইবার আইনে ২৫৫টি মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে ১৮টির বাদী শিশুরা, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এই দুই বছরে সাইবার আইনের অপরাধে দায়ের করা অভিযোগে ২৭৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

/এমএনএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ