হত্যাকাণ্ডের আগে দুই বৈঠকে অংশ নেন ছাত্রলীগের ১৭ জন

Send
নুরুজ্জামান লাবু ও আমানুর রহমান রনি
প্রকাশিত : ০২:২৯, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪৫, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বিকে হত্যার আগে শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনে একটি এবং গেস্ট রুমে একটি বৈঠক হয়। এ বছরের ৪ ও ৫ অক্টোবরের ওই দুই বৈঠকে ছাত্রলীগের ১৭ জন নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেছিলেন। বুয়েট ছাত্রলীগ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রাবিনের নেতৃত্বে প্রথম বৈঠকটি হয়। দুটি বৈঠকেই অংশ নিয়েছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ ও উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা। এদের সবাইকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) আদালতে দাখিল করা আবরার ফাহাদ রাব্বি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বৈঠকের বিষয়ে বলা হয়েছে, ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনে একটি বৈঠক হয়। এই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন। আবরার ফাহাদের ওপর নজর রাখতে বলা হয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। সে কী করে, কোথায় যায়, তার কাছে কেউ আসে কিনা- এসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে বলা হয়। প্রথম বৈঠকে আট জন অংশগ্রহণ করেছিলেন।

৪ অক্টোবরের বৈঠকে ছিলেন যারা: বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা, উপ-সমাজ সেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না এবং উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সদস্য খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম ওরফে তানভীর ও আকাশ হোসেন। আবরার হত্যার পর ছাত্রলীগ থেকে সবাইকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

৫ অক্টোবর বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলেন যারা: শেরেবাংলা হলের গেস্ট রুমে ৫ অক্টোবর আরও একটি বৈঠক করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রাত ১০টার দিকের এই বৈঠকে ১২ জন অংশ নেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্ত নেন- আবরার ফাহাদকে ধরতে হবে, তাকে চেক করে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে মেরে হল থেকে বের করে দিতে হবে।

বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- উপ-সমাজ সেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা, সদস্য আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, সামছুল আরেফিন রাফাত, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, মুনতাসির আল জেমি, মো. মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম এবং মো. সাদাত ওরফে এ এস এম নাজমুস সাদাত।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘চার্জশিট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, আবরার হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় ১১ জন। বাকি ১৪ জন হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত ছিল।’

প্রসঙ্গত, ৬ অক্টোবর রাতে আবরারকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে গিয়ে আবরারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার সব আসামি বর্তমানে কারাগারে আছে। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ