গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রস্তাব পাস

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৩:৩৬, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৪৭, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

জাতীয় সংসদ ভবন (ছবি- সাজ্জাদ হোসেন)

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী এই প্রস্তাব উত্থাপন করলে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেন সরকারি ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য। পরে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সাবের হোসেন চৌধুরী প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। এই সমস্যার জন্য যারা মূলত দায়ী, উন্নত বিশ্বে তারা এটাকে গুরুত্ব দেন না। তাদের দেওয়া ওয়াদাগুলো উন্নত বিশ্ব রক্ষা করছে না। বাংলাদেশ তার সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছে। উন্নত দেশের নাগরিকরা এখন উপলব্ধি করছে এই প্রভাব সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

সাবের হোসেন চৌধুরীর প্রস্তাবে বলা হয়, ‘সংসদের অভিমত এই যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অস্তিত্বের সংকট, উপর্যুপরি দুর্যোগের ভয়াবহ আঘাত এবং চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার বৃদ্ধি, জীব বৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা, ক্রমবর্ধমান পানি সংকট, মহাসাগরগুলোর ওপর অভাবনীয় চাপ এবং সম্পদের অমিতচারী ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হোক।’

আরও বলা হয়, জরুরিভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে এবং উচ্চতর লক্ষ্য সামনে রেখে এখনই সক্রিয় হতে হবে বৈশ্বিক গোষ্ঠীকে। এতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে ২০৫০ সালের মধ্যে নেট জিরো এমিশনস এ পৌঁছানো, তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে এক দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা এবং দ্রুততম সময়ে স্বল্প কার্বন অর্থনীতিতে রূপান্তর নিশ্চিত করা।’

বলা হয়, ‘এটি প্রতিষ্ঠিত যে, চলমান সংকটে সর্বনিম্ন মাত্রার অবদান রাখা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ ক্ষতি এবং ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ এবং অনেক উন্নয়নশীল দেশ ও ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র। প্যারিস চুক্তিসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার অধিকাংশই পূরণ হয়নি। গ্রহজনিত ন্যায়বিচার এবং ক্লাইমেট ইক্যুইটির দাবি, ঝুঁকির মধ্যে থাকা এই দেশগুলোকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে হবে। যাতে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে। এসব বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের সব পার্লামেন্ট ও সরকার, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক দ্রুত কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক এবং সব অংশীজনের সমন্বয়ে অভিন্ন সত্তারূপে আমাদের বাসযোগ্য একমাত্র এই গ্রহটির সুরক্ষা ও হেফাজতের লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকবিলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিজস্ব অর্থে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। এই অর্থে ৭১৮টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ৪৬৩ প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষতির বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, ‘আগে শত বছরে একটি বড় ঘূর্ণিঝড় হলেও এখন প্রায় প্রতি বছরে একটি ঝড় মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’

তিনি এই প্রস্তাবের সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টে স্পিকারের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হলে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে। গত ১০ নভেম্বর ২৩ লাখ লোককে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে হয়েছে। সরকারের প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থার কারণে খুবই কম সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’

জাতীয় পার্টির রুস্তুম আলী ফরাজী বলেন, ‘জলবায়ুর ক্ষতি এড়াতে আমাদের করণীয় যথাযথভাবে করছি না। বনায়ন না করে আমরা বন ধ্বংস করছি। জলাভূমি বন্ধ করা হচ্ছে, অক্সিজেনের অভাব তৈরি হচ্ছে। ৫০ বছর পরে যে শিশুরা আসবে তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত করে যাচ্ছি।’

বিএনপি দলীয় সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য আমরাই দায়ী। পরিবেশ রক্ষায় আমরা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। পাহাড় ধ্বংস হচ্ছে, নদী ধ্বংস হচ্ছে।’ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমালোচনা করেন তিনি।

বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশ সঠিকভাবে তার ভূমিকা পালন করতে পারছে কিনা, ফান্ডের বরাদ্দের অর্থ পাওয়া কোথায় ব্যবহার হচ্ছে, কতটুকু ভূমিকা রাখছে।এসব ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া উচিত। কয়লাভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্র রামপাল নিয়ে আরও বেশি সচেতন হয়ে দেখিয়ে দিতে পারি সারা বিশ্বকে- আমরা সচেতন।’

প্রস্তাবের ওপর অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম; বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, কাজী নাবিল আহমেদ, নজরুল ইসলাম বাবু, ওয়াসিকা আয়েশা খান, জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু ও জাসদের শিরীন আখতার।

 

 

/ইএইচএস/এএইচ/

লাইভ

টপ