সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন সেই সুমি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১১:৫৮, নভেম্বর ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৬, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

সুমি আক্তারসৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেসবুকে ভিডিও বার্তা পোস্ট করা বাংলাদেশি নারী শ্রমিক সুমি আক্তার দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এ সময় ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের পরিচালক ও উপ-সচিব মো. জহিরুল ইসলাম বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদনে সহযোগিতা করেন তাকে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে ভিআইপি টার্মিনাল দিয়ে বের করে নিয়ে আসা হয়। এরপর বোর্ডের নিজস্ব গাড়িতে সুমিকে বাড়ির উদ্দেশে পঞ্চগড়ে পাঠানো হয়। স্বামী নুরুল ইসলাম বিমানবন্দরে উপস্থিত হলেও তার কাছে সুমিকে হস্তান্তর করা হয়নি।

এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ২-এ গণমাধ্যম কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা কেউই সুমির সাক্ষাৎ পাননি।

সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সূত্রে জানা যায়, দেশে ফেরার আগে কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে সুমির দেশের ফেরার দিন-তারিখ জানানো হয়। সেখানে এও উল্লেখ করা হয়, ‘সুমি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হলো।’

ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের পরিচালক জহিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুমিকে আমরা বোর্ডের গাড়ি দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বাড়ির উদ্দেশে পাঠিয়েছি। তার সঙ্গে আমাদের দুজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। সেখানে ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তাকে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে না দিয়ে সুমিকে অন্যপথ দিয়ে কেন বের করা হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে বিষয়টি এমন নয়। সুমি দেশে ফেরার আগে আমাদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখন এর পেছনে কারণ কী আমি ঠিক জানি না। আমি সকালে সুমির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না। তাকে ভীষণ অসুস্থ মনে হয়েছে আমার কাছে। তাই আমরা তাকে আমাদের গাড়িতে বাড়ির পথে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, সুমির বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বৈরাতি সেনপাড়া গ্রামে। বোর্ড সূ‌ত্রে জানা গে‌ছে, সুমিকে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহামুদ হাসানের মাধ্যমে বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গত ৩০ মে রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স রূপসী বাংলা ওভারসিজের মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরবে যান সুমি। সেখা‌নে নির্যাতনের শিকার হলে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। ওই ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর তার স্বামী নুরুল ইসলাম রাজধানীর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ভিডিওতে সুমি বলেন, ‘ওরা আমারে মাইরা ফালাইবো, আমারে দেশে ফিরাইয়া নিয়া যান। আমি আমার সন্তান ও পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমাকে আমার পরিবারের কাছে নিয়ে যান। আর কিছুদিন থাকলে আমি মরে যাবো।’

থানায় জি‌ডি করার পর ২২ অক্টোবর জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন নুরুল ইসলাম। কোনও সমাধান না পেয়ে সুমিকে নিরাপদে দেশে ফেরত আনতে ২৭ অক্টোবর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামে আবেদন করেন তিনি। ওই আবেদনের প‌রিপ্রেক্ষিতে ব্র্যাকের সহায়তায় ২৯ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়। পরে জেদ্দা কনস্যুলেটের হস্তক্ষেপে সুমিকে নিয়োগকর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে সে দেশের পুলিশ। শুরুতে সুমির নিয়োগকর্তা ২২ হাজার সৌদি রিয়াল পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাকে ফাইনাল এক্সিট- অর্থাৎ দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে জানালেও পরে নাজরান শহরের শ্রম আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।

আরও পড়ুন:

টাকা ছাড়াই মুক্তি পেলেন সৌদিতে নির্যাতনের শিকার সুমি

 

/এসও/এপিএইচ/এমএএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ