‘একসঙ্গে ১০ জাহাজ পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ করলে দাম আরও কমে যেতো’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৫১, নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৩, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

2বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজারে সরবরাহ করলে দাম আরও কমে যেত বলে মন্তব্য করেছেন কাওরান বাজার আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি বলেন,  ‘সরকার যদি টিসিবির মাধ্যমে ১০ জাহাজ পেঁয়াজ আমদানি করে একসঙ্গে বাজারে ঢুকিয়ে দিতো তাহলে আগের দামের চেয়েও আরও কমে পেঁয়াজ বাজারে পাওয়া যেতো।’

শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘পেঁয়াজের এত ঝাঁজ?’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকালে শুরু হয় বাংলা ট্রিবিউনের সাপ্তাহিক এই আয়োজন।

বেশি লাভের জন্য ব্যবসায়ীরা আমদানি করা পেঁয়াজ ধীরে ধীরে বাজারে সরবরাহ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দামটি একদম প্রান্তিক পর্যায় থেকে বাজারে এসে পড়েছে। বাজারে পেঁয়াজ স্টক করার মতো সক্ষমতা কারও নেই। কারণ আড়তে বড়জোর এক গাড়ি মাল রাখা যায়। ব্যবসায়ীরা গুদাম থাকলে আরও এক গাড়ি মাল রাখতে পারেন। দুই গাড়ি মানে এক কন্টেইনার। এক কন্টেইনার মানে এক খুচরা বাজারের পেঁয়াজ। আর বিদেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ কন্টেইনার থেকে বের করার পর তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে ফেলে দিতে হয়। সেটাও স্টক করার মতো অবস্থায় থাকে না। তবে যারা বড় আমদানিকারক তারা হয়তো বহির্নোঙরে জাহাজটি রাখছেন। আবার হয়তো কেউ বন্দরে এনে ২০ কন্টেইনারের মধ্যে তিন কন্টেইনার প্রতিদিন বাজারে আনছেন। দু দিন পর্যন্ত তাকে ট্যাক্স দেওয়া লাগছে না। দু দিন পর থেকে তিনি ভেবেছেন, “৫০-১৫০ ডলার করে ট্যাক্স দেওয়া লাগবে। এই ট্যাক্স দিয়ে যদি পরে ১০ টাকা বেশিতে বিক্রি করি তাহলে তো কয়েক হাজার ডলার হবে।” তিনি ধীরে ধীরে সেখান থেকে খালাস করে পেঁয়াজ নিয়ে আসছেন।’  

পেঁয়াজের দাম বাড়ায় এবার কৃষকরাও লাভবান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে, পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশি। ঝাঁজের কারণেই আমরা পেঁয়াজ কিনি। আমি বলতে চাই, পেঁয়াজের ঝাঁজ থাকুক, কিন্তু দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসুক। এ দেশের মানুষ যখন দেখে একটা জিনিস অমুক দেশ থেকে আসবে না, তখন কৃষকপর্যায়ে চালা থেকে ১০ মণের জায়গায় এক মণ নামিয়ে আনে। কৃষকরা যে লাভবান হয়নি তা কিন্তু নয়। এর আগে যারা লস করেছে তারাই আবার লাভ করেছেন। অর্থাৎ আগে মজুত করে রেখে যারা লাভ করতে পারেননি, এবার সুযোগ পেয়ে সেই লাভ তুলে নিয়েছেন।’

সাংবাদিক মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় আজকের বৈঠকিতে আরও অংশ নেন– রাজধানীর শ্যামবাজারের আড়তদার মো. শামসুর রহমান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) স্কুল অব বিজনেসের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী রাজীব এবং বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম।

রাজধানীর পান্থপথে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে এ বৈঠকি সরাসরি সম্প্রচার করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে লাইভ দেখা গেছে এ আয়োজন। ইউল্যাবের সহযোগিতায় এ বৈঠকি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

/এসও/এমএএ/

লাইভ

টপ