১১ সেকেন্ডে এটিএম বুথ খুলে ফেলে জালিয়াতচক্র

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৩:২২, নভেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪৮, নভেম্বর ২১, ২০১৯

রাজধানীর এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনা উদঘাটনের আগেই ফের একইরকম ঘটনা ঘটেছে। এবার ঢাকার বাইরে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের দুটি বুথ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে জালিয়াত চক্র। মাত্র ১১ সেকেন্ডে এটিএম বুথের মেশিন খুলে একটি নতুন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ‘এন্টার’ চেপে টাকা বের করে নিয়েছে চক্রটি। এই ডিভাইস ও প্রক্রিয়া তদন্ত করে দেখেছে থানা ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গত ১৬ ও ১৭ নভেম্বর কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে পূবালী ব্যাংকের তিনটি বুথ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

প্রথমে, ১৬ নভেম্বর ৬ টা ৫ মিনিটে প্রথম কুমিল্লার কান্দিপাড়া পূবালী ব্যাংকের প্রধান শাখার এটিএম বুথ থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা জালিয়াতি করে তুলে নেয় চক্রটি। চুরির অভিযোগে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন পূবালী ব্যাংক কান্দিরপাড় শাখার ব্যবস্থাপক মাইনুল ইসলাম।

লিখিত অভিযোগে মাইনুল ইসলাম জানান, ১৬ নভেম্বর রাতে পূবালী ব্যাংকের কুমিল্লার প্রধান শাখা কান্দিরপাড় এটিএম বুথের মেশিন থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা চুরি করা হয়েছে।

ব্যাংকের মামলার পর থানা পুলিশ ওই এটিএম বুথের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করেছে। তা পাঠানো হয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ১৬ নভেম্বর কুমিল্লা সদরের পূবালী ব্যাংকের প্রধান শাখার এটিএম বুথে ৬টা ৫ মিনিটে এক যুবক এটিএম বুথে প্রবেশ করে থাকে ৬টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত। প্রবেশ করেই ১১ সেকেন্ডে চাবি দিয়ে বুথ খুলে ফেলে। এরপর একটি ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে টাকা তুলে নেয়। কিছু সময় বিরতি দিয়ে আবার ৬টা ৩৫ মিনিট থেকে ৬টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত দুই দফায় মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে নেয় জালিয়াত চক্রটি।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইতোমধ্যে আমরা সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ফুটেজ দেখে তদন্ত কাজ চলছে।

১৬ নভেম্বর কুমিল্লায় জালিয়াতির পর ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম ডবলমুরিং থানা এলাকার কলেজ রোডের পূবালী ব্যাংক ব্রাঞ্চের এটিএম বুথে জালিযাতি করে চক্রটি। সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ৩৯ থেকে ৬টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলে দুই প্রতারকের টাকা উত্তোলন অভিযান। তাদের সঙ্গে আরও এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। ছয় মিনিটের ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা তুলে নেয় বলে ব্যাংক অভিযোগ করেছে। এরপর চট্টগ্রামের মুজিব রোডের ব্রাঞ্চে রাত ৮টা ৪৪ মিনিট থেকে ৯টা ৩ মিনিট পর্যন্ত ১৯ মিনিটের অভিযানে হাতিয়ে নেয় আরও ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। এখানেও অংশ নেয় দুজন।

চট্টগ্রামের মুজিব রোডের ব্রাঞ্চের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, কালো-লাল রঙের ফুল হাতা শার্ট ও কালো ফ্রেমের চশমা পরিহিত এক যুবক এটিএম বুথে প্রবেশ করেই মাত্র ১১ সেকেন্ডের মধ্যে এটিএম মেশিন খুলে ফেলে। মেশিন খুলে ভেতরে হাত দিয়ে কিছু একটা করে। ধারণা করা হচ্ছে, মেশিনটিকে ব্যাংকের মেইন সার্ভার থেকে বিচ্ছিন্ন করে। এরপর মেশিন আটকে একটি তারবিহীন যন্ত্রের সঙ্গে সংযোগ দেয়। এরপর মেশিনের ‘এন্টার’ বাটন চেপেচেপে দফায় দফায় টাকা বের করে নিচ্ছে। প্রথম ব্যক্তি মেশিনের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর ৯ বার এন্টার চেপে টাকা বের করেন। এরপর তার সহযোগি প্রবেশ করে। সেও এন্টার বাটন চেপে টাকা উত্তোলন করে। প্রতিটি ট্রানজেকশনে ২০ হাজার টাকা উঠিয়ে নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আলিম চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। আমরা মামলা করেছি। পুলিশকে অবহতি করেছি।

আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটিএম বুথটি খুলে এর কম্পিউটার সিস্টেমে একটি প্রোগ্রাম রান করিয়েছে। এরপর তার হাতে থাকা তারবিহীন যন্ত্রাংশ দিয়ে কমেন্ট দিয়ে কম্পিউটার সিস্টেম পরিচালনা করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য এটিএম বুথের মেশিনটি জব্দ করে এর প্রোগ্রাম সেটআপ চেক করতে হবে। জালিয়াত চক্রটি কীভাবে কাজ করেছে তদন্ত করে এই বিষয়টি জানা যাবে। তবে পুরো বুথের নিয়ন্ত্রণ তারা নিয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের এটিএম বুথ আপডেটেড না। এগুলো আরও আপডেট করা উচিত।’

এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, সিসি ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশ করে জালিয়াতের সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে সহযোগিতা চেয়েছে। 

চলতি বছরের ১ জুন রাজধানীতে ইউক্রেনের সাত নাগরিকের এটিএম জালিয়াতির কৌশলের বিষয়ে এখনও অন্ধকারে পুলিশ। এই ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর কুমিল্লা ও চট্টগ্রামেও জালিয়াতির ঘটনা ঘটলো।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, জুনের ঘটনায় প্রতারক চক্রটি ‘টুপকিন’ নামে একটি ম্যালওয়ার ব্যবহার করেছিল। তবে এবারের চক্রটি এটিএম বুথ খুলে একটি প্রোগ্রাম রান করিয়ে কম্পিউটার সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

/এআরআর/এএইচ/

লাইভ

টপ