যাত্রী হয়রানির দায়ে মালিন্দো এয়ারলাইনসকে জরিমানা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১০:২৬, নভেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫২, নভেম্বর ২১, ২০১৯

মালিন্দো এয়ারলাইনসযাত্রী হয়রানির অভিযোগে অবশেষে মালিন্দো এয়ারলাইনসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করলো জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এর আগে ‘২২ মাসেও নিষ্পত্তি হয়নি মালিন্দো এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউন। এর এক মাস পর ১৭ নভেম্বর এ নিয়ে আদেশ আসলো। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল।

আব্দুল জব্বার মণ্ডলের স্বাক্ষর করা ওই আদেশে বলা হয়, অভিযোগকারী মাইমুন উর রশিদ মোস্তফা অভিযুক্ত মালিন্দো এয়ারের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলযোগ্য হওয়ায় নিষ্পত্তির জন্য উভয়পক্ষের শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়। ১ সেপ্টেম্বর বনানীতে উভয়পক্ষ বিষয়টি আপসে নিষ্পত্তি করবেন বলে মৌখিকভাবে জানান। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর শুনানিতে উভয়পক্ষ জানান, আপসে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অভিযোগকারী অভিযুক্ত মালিন্দো এয়ারের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর হয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার উদ্দেশে যাত্রার সময় ছিল ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর (৩০ নভেম্বর দিবাগত) রাত পৌনে ১টার বিমানে। সে কারণে অভিযোগকারী প্রয়োজনীয় চেক ইন, বোর্ডিং পাস ইত্যাদির জন্য ৩০ নভেম্বর রাত ৮.০০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছান। চেক ইনের সময় অভিযোগকারীকে জানানো হয়, বিমান ছাড়তে চার ঘণ্টা দেরি হবে। সে হিসেবে বিমান ছাড়ার কথা ১ ডিসেম্বর ভোর ৪টায়। এক্ষেত্রে অভিযোগকারী মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের কানেকটিং ফ্লাইট ধরতে পারেননি এবং জাকার্তায় বুকিংকৃত হোটেল ভাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শিকারের কথা জানান। তবে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেয়, এ রকম কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু রাত ৩টার সময় এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ অভিযোগকারীকে জানায়, ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে বিমানটি ছাড়ে ১ ডিসেম্বর বিকাল ৫টায়। কুয়ালালামপুরের কানেকটিং বিমান ছিল রাত ১২টায়। কিন্তু সেই বিমান ছাড়ে সকাল ৮টায়। ফলে অভিযোগকারীকে অবশিষ্ট রাত থাকা এবং খাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়। দেরিতে পৌঁছানোর ফলে ইন্দোনেশিয়ায় বুকিংকৃত আবাসিক হোটেলের জন্য অভিযোগকারীর এক দিনের ভাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অভিযোগকারী আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযুক্ত পক্ষ স্বীকার করেছে।

যেহেতু অভিযুক্ত পক্ষ স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে, তাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫৩ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান মালিন্দো এয়ারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হলো। আরোপিত জরিমানার টাকা অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে অনূর্ধ্ব পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

রায়ের বিষয়ে অভিযোগকারী মাইমুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এতদিন পর রায় হয়েছে, এরপরও আমি সন্তুষ্ট। কিন্তু এখানে একটি বিষয় আছে, তা হলো আমার অভিযোগে তিনটি ধারা আমলে নিয়ে আদেশ দেওয়া যেত। সেক্ষেত্রে জরিমানা আরও বেশি হতো। কিন্তু এখানে একটি ধারায় অভিযুক্ত করে আদেশ করা হয়েছে। হয়তো মনে করতে পারেন জরিমানার অর্থের পরিমাণের জন্য বলছি। কিন্তু আমার টাকার দরকার নেই। সাজাটাই মূল কথা। আদেশ নিয়ে আমার সুযোগ আছে হাইকোর্টে যাওয়ার। কিন্তু আমি তা করবো না।’

/এসও/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ