‘শ্রমিক ফেডারেশন এখন বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে চলে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৩৪, নভেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩৯, নভেম্বর ২১, ২০১৯

বক্তব্য রাখছেন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী

সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী ও শ্রমিক নেতা শাজাহান খান এখন পর্দার আড়ালে চলে গেছেন, এমন দাবি করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী বলেছেন, ফেডারেশন এখন বিএনপি- জামায়াতের নেতৃত্বে চলে। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ইনসুর আলী বলেন, ‘সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন বিএনপি-জামায়াত চালায়। সেখানে দুই জন লোক আওয়ামী লীগের নামধারী নেতা। একজন পাবনার ওয়াজউদ্দিন খান এবং আরেকজন সাবেক  নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। উনি এই সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি। আর এই সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট দক্ষিণ বঙ্গে ধর্মঘট আহ্বান করে বসে আছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি এরইমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন।’

ইনসুর আলী আরও  বলেন, ‘আরেকজন ভাইস প্রেসিডেন্ট গাবতলীর নেতা আতিক, তিনিও বিএনপির নেতা। এই ফেডারেশনের প্রত্যেকেই বিএনপির নেতা। শিমুল বিশ্বাস খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, তিনি এই ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজীপুর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি হুমায়ুন কবির খান। আর মোখলেসুর রহমান ঢাকা মহানগরীর পাঁচ হাজার হিউম্যান হলার নিয়ন্ত্রণ করেন। এখান থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ লাখ টাকা অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সুতরাং, আমি বলতে পারি, এই ফেডারেশন পুরোপুরি বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে চলে। কারণ, সংগঠনের সভাপতি শাজাহান খান এখন অচল। তিনি ঘরে বসে আছেন, তিনি কোনও মিটিংয়ে আসেন না।’

ফেডারেশনের নেতা ওসমান আলী ও শাজাহান খান পর্দার আড়ালে চলে গেছেন, এমন দাবি করে ইনসুর আলী বলেন,  ‘পর্দার আড়ালে গিয়ে ফেডারেশনের নামে ধর্মঘট না ডেকে, ইউনিয়নকে মেসেজ দিয়ে বলেছে ধর্মঘট করতে। কারণ, অতীতে ২০১৪ সালের পর যখনই ওনারা ধর্মঘট আহ্বান করেছে, তখন ওই ধর্মঘটকে অবৈধ, অনৈতিক এবং শ্রম আইন পরিপন্থী বলে আমরা তুলে ধরেছি। পাশাপাশি যারা আজকে ধর্মঘট ডেকেছে, তারা বাংলাদেশের শ্রম আইনকে অবজ্ঞা করেছে। ধর্মঘট ডাকার আগে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি-দাওয়া তুলে ধরার কথা। কর্তৃপক্ষ যদি না মানে, তাহলে আরেকটা চিঠি দিতে পারেন। সেটাও না মানলে আরেকটি চিঠি দেবেন। সেটাও না মানলে আপনি সাধারণ সভা ডাকবেন। সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, কী কর্মসূচি নেবেন। প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল করে যদি কাজ না হয়, তাহলে সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ধর্মঘটের পক্ষে ও বিপক্ষে জরিপ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এই দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে শ্রম আইনকে অবজ্ঞা করেছে। তাদের এই কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ। তারা ২০১১ সালে একবার নির্বাচন করেছে। হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে পেশী শক্তির বলে সেদিন মহানগর নাট্যমঞ্চে তারা একটি কমিটি করেছে। যারা শ্রম আইন পরিপন্থী, তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তারা জনগণকে জনদুর্ভোগে ফেলছে। তাদের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,‘পরিবহন সেক্টরে নামধারী বিএনপি-জামাতপন্থী নেতারা দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। পরিবহন শিল্পে বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস এক-একটি  প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি পরিবহন সেক্টরে শ্রম আইন পরিপন্থীভাবে চাঁদা আদায় করে অনেকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। ফেডারেশনের কর্মকর্তারা কর্ম বিরতির নামে ধর্মঘট আহ্বান করে জনগণ ও রাষ্ট্রকে জিম্মি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। আমরা অবৈধ ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

এসময় আগামী ২৪ নভেম্বর ১২ দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মানববন্ধন পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— সংগঠনের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল কবির মিরাজ, অর্থ সম্পাদক রেজাউল করিম, কার্যকরী সদস্য বাদল সরকার প্রমুখ।

/এসও/এপিএইচ/

লাইভ

টপ