কর্মকর্তারা যখন অনৈতিকতায় জড়ান তখনই ব্যর্থ হতে হয়: দুদক চেয়ারম্যান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৫৬, নভেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৪, নভেম্বর ২১, ২০১৯

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখছেন চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদদুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মপ্রক্রিয়া উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সেগুনবাগিচায় প্রধান কার্যালয়ে দুদকের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় দুদক চেয়ারম্যান নিজেদের সাফল্য-ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত করেন। আত্মসমালোচনা করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে দুদকের ব্যর্থতাকে অকপটে স্বীকার করে নিয়ে ব্যর্থ হওয়ার কারণও উল্লেখ করেন তিনি। এজন্য সংস্থার কর্মকর্তাদের অসততা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়াকে দায়ী করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আত্মসমালোচনা করতে হবে। গত বছর আমরা কী করেছি, কী করার ছিল, কী করিনি কিংবা আগামী বছর কী করবো এসব নিয়ে নিজেদের আত্মজিজ্ঞাসা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুদকের কর্মপ্রক্রিয়া হবে উন্মুক্ত এবং স্বচ্ছ। আমরা আমাদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাই না, সফলতা না বললে ব্যর্থতা বলতে চাই।’

দুদক কেন ব্যর্থ হয় এমন প্রশ্ন রেখে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তারা যখন নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করতে পারেন না, তারা যখন তথ্য পাচার করেন কিংবা অনুসন্ধান বা তদন্তে নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেন না অথবা অনৈতিকতায় জড়িয়ে পড়েন, তখনই আমাদের ব্যর্থ হতে হয়। আপনারা যদি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে এ কাজগুলো করেন তাহলে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই। এতে জনআস্থাও বাড়বে।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘তারপরও সফলতা যতটুকু সবটাই আপনাদের আর ব্যর্থতাটুকু আমাদের। তবে আগামী বছর আপনাদের সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকেই বার্ষিক পারফরম্যান্স অ্যাপ্রেইজাল সংযোজন করা হবে এবং তা সবাইকে পালন করতে হবে। বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের পরিবর্তে বার্ষিক পারফরম্যান্স অ্যাপ্রেইজাল প্রচলন করা হবে।’
এ সময় তিনি প্রশাসন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে ডিসেম্বর মাসেই প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ জানান। বলেন, ‘যেসব কর্মকর্তা বার্ষিক পারফরম্যান্স অ্যাপ্রেইজাল অনুসারে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন তাদের জবাবদিহি করতে হবে। শৃঙ্খলা-আপিল বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুদকে অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। তাই অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় আরও জবাবদিহির পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করা যায় কিনা তা ভেবে দেখা হচ্ছে। আর এটা করা গেলে দুদকের প্রতি জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে আমার বিশ্বাস’। জনগণকে দুদকের কর্মপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও স্বচ্ছ করা হবে বলেও জানান তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণের চাহিদা অনুযায়ী আমরা সেবার জোগান দিতে না পারার কারণেই হয়তো আস্থার ঘাটতি কিছুটা রয়েছে। আর আস্থা তখনই বৃদ্ধি পাবে যদি আমরা আচরণ, নৈতিক মূল্যবোধ, কর্মপদ্ধতি, অঙ্গীকার , বিশ্বাস অর্থাৎ সার্বিক নৈতিক চেতনার অন্তর্নিহিত বিকাশ ঘটাতে পারি।’
ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুদকের গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা সবসময় স্বাগত জানাই। কারণ, সমালোচনার মাধ্যমে কেউ যদি আমাদের কর্ম-প্রক্রিয়ায় ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারেন সেটাকে আমার সাধুবাদ জানাবো। কিন্তু কেউ যদি সমালোচনার জন্যই সমালোচনা করেন, এটা দুঃখজনক।’
তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এমন কোনও কাজ করবেন না, যাতে আপনি নিজে লজ্জিত হন এবং কমিশনকে লজ্জায় ফেলে দেন।’
সভায় দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গণশুনানির মাধ্যমে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের অনেক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করা হচ্ছে। সরকারি কোনও কোনও অফিস হয়তো চায় না দুদকে গণশুনানি হোক, কিন্তু জনগণ চায়। যে কারণে গণশুনানির সময় জনগণ দৃঢ়ভাবে কথা বলে। গণশুনানি হবে এমন সংবাদেই অনেক সমস্যার সমাধানও হচ্ছে।’
তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘আইন-কানুন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন।’
দুদকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত, প্রতিরোধ অনুবিভাগের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ, পরিচালক মো. আক্তার হোসেন, নাসিম আনোয়ার ও উপ-পরিচালক মো. তালেবুর রহমান।

/ডিএস/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ