শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটরিংয়ে ‘গাফিলতিতে’ ক্ষুব্ধ মাউশি

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ২৩:২৪, নভেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩২, নভেম্বর ২২, ২০১৯

 মাউশিঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘গাফিলতি’র প্রমাণ পেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি)।  সম্প্রতি অধিদফতরের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা এভাবে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত সম্ভব হবে না। প্রতিবেদনে এমন অনিয়মের চিত্র দেখে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর ‘ক্ষুব্ধ’ মাউশি। 

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাউশি পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান অধিদফতরের ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ উল্লেখ করে বলেন,  ‘গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনিটরিং ছাড়া সম্ভব নয়। আমরা চাই, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রশাসনিক মনিটরিং করবেন। তবে, বেশি করবেন অ্যাকাডেমিক মনিটরিং। অ্যাকাডেমিক মনিটরিং খুব বেশি দরকার। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেবো।’

প্রসঙ্গত, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৪) অর্জনে মানসম্মত শিক্ষা ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষার সব স্তরে কার্যকর অ্যাকাডেমিক সুপারভিশন ও মনিটরিং জোরদার করার উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ দেয়। 

মাউশির বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত রাজস্ব খাতের কর্মকর্তা ও সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ)-এর অধীন সব কর্মকর্তাকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে মাঠ-পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ছকে প্রতিবেদন পাঠানোর কথা বলা হয়। এই নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ের পাঠানো প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা অফিস ও আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস সংকলনের পর এর সারসংক্ষেপ আকারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে পাঠায়। তবে, মাঠপর্যায় থেকে পাঠানো অ্যাকাডেমিক সুপারভিশন ও মনিটরিং প্রতিবেদন পর্যালালোচনা করে সন্তুষ্ট হতে পারেনি মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন উইং। বিষয়টি উপস্থাপন করলে ক্ষুব্ধ হন মাউশির মহাপরিচালক।

এ নিয়ে মাউশির মহাপরিচালক আবারও অন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেন। গত ২১ নভেম্বর সংশ্লিষ্টদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত বিরতিতে যথাযথ ও ফলপ্রসূ অ্যাকাডেমিক সুপারভিশন ও মনিটরিং হচ্ছে না।’

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুপারভিশন ও মনিটরিং জোরদার জোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ২৫ সেপ্টেম্বর। ওই নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুপারভিশন ও মনিটরিং নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি অসন্তোষ করা করা হয়েছিল।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ছক অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যথাযথভাবে বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন না। ফলে অ্যাকাডেমিক সুপারভিশন কার্যকর হচ্ছে না। এ কারণে সেসিপের আওতায় কর্মরত কর্মকর্তারা মাসে কয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন, তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়য়েছিল, প্রতি মাসে ন্যূনতম সহকারী পরিচালক ৫টি, সহকারী পরিদর্শক ও গবেষণা কর্মকর্তা ১৫টি এবং উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার ২০টি বিদ্যালয়ে অ্যাকাডেমিক সুপারভিশন নিশ্চিত করবেন। এছাড়া, রাজস্ব খাতের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের নির্ধারিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন নিশ্চিত করবেন। ব্যতিক্রম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে, এই নির্দেশনা জারির পরও গত ২১ নভেম্বর আবারও অসন্তোষ প্রকাশ করে নতুন করে নির্দশনা দেওয়া হয়।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ