যা আছে খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্টে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:১৬, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৫, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

 অসুস্থতার কারণে বিএসএমএমইউয়ে নেওয়ার সময় গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। (ফাইল ছবি)

আদালতে জমা দেওয়া মেডিক্যাল রিপোর্টে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার চারটি রোগের কথা উল্লেখ করে চিকিৎসকরা লিখেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা বা কাশিসহ শ্বাসকষ্ট এবং রিউমেটায়েড আর্থাইটিসে ভুগছেন।

মেডিক্যাল বোর্ড লিখেছেন, তার ( খালেদা জিয়া) উচ্চ রক্তচাপ ( হাইপারটেনশন)  এবং অ্যাজমা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, কেবল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তার নতুন করে কিছু পরীক্ষা প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. ঝিলন মিঞা সরকারের নেতৃত্বে অধ্যাপক ডা. ফরিদ উদ্দীন, ডা. শামীম আহমেদ, ডা. বদরুন্নেছা আহমেদ, ডা. তানজিমা পারভিন, ডা. চৌধুরী ইকবাল মাহমুদ এবং ডা. সৈয়দ আতিকুল হকের সমন্বয়ে এ মেডিক্যাল বোর্ড চিকিৎসা দিচ্ছেন খালেদা জিয়াকে।

বুধবার ( ১১ ডিসেম্বর) উচ্চ আদালতের নির্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড তার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমা দেয় আদালতে। এ বিষয়ে আজ আপিল বিভাগে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রতিবেদনে মেডিক্যাল বোর্ড উল্লেখ করেন,  খালেদা জিয়া আগে থেকেই রিউমেটায়েড আর্থাইটিসে ভুগছেন, সেজন্য আগে থেকেই তার হাঁটুর জয়েন্ট রিপ্লেস করা আছে।

মেডিক্যাল বোর্ড এ প্রসঙ্গে বলেছেন, তার সবকিছু ঠিক থাকলেও রিউমেটায়েড আর্থাইটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। যে চিকিৎসা তাকে দেওয়া হচ্ছে সেটা পরিপূর্ণ নয় উল্লেখ করে তারা বলেছেন, আধুনিক সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি বায়োলজিক্যাল থেরাপি রয়েছে। কিন্তু এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, আবার এতে করেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন অথবা যাবেন না-এ বিষয়গুলোও সম্পর্কিত।

এ বিষয়গুলোতে বেগম খালেদা জিয়ার সম্মতি চাওয়া হয়েছিল কিন্তু চিকিৎসকরা সে চিকিৎসা শুরু করবেন কিনা সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত দেননি কারাবন্দি এই নেত্রী।

মেডিক্যাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার যে রিউমেটিক আর্থাইটিস রয়েছে সেটা এতদিন পায়ে থাকলেও এখন সেটা শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টকে আক্রান্ত করছে, অ্যাকিটিভ স্টেজে রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, এখন সেটা শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টকে ধরে ফেলেছে। 

চিকিৎসকদের ভাষায়, বিভিন্ন জয়েন্টকে ইনভল্ব করছে। সে কারণে তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া মুভমেন্ট করতে পারছেন না। আর এই অসুখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আক্রান্ত এবং এর কোনও ‘কিউরেটিভ ট্রিটমেন্ট’ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। একইসঙ্গে যেহেতু  তার ‘রিউমেটিক আর্থাইটিস’ ‘অ্যাক্টিভে স্টেজে’ রয়েছে তাই এ বিষয়ে ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে বায়োলজিক্যাল থেরাপি’ বা এ বিষয়ে যে অ্যাডভান্স চিকিৎসা সেটা তিনি এতদিন পাননি। তারা এখন সেটা শুরু করতে চান এবং বর্তমানে এটাই আন্তর্জাতিকভাবেও রিকমেন্ড করা হয়।

কিন্তু এ চিকিৎসা দিলেই যে তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন-সে বিষয়েও নিশ্চিত করে বলা যায় না। সে কারণে এ চিকিৎসা শুরু করতে হলে তার অনুমতি প্রয়োজন।

একইসঙ্গে তার ডান পায়ে ছোট গুটির মতো রয়েছে এর জন্য তার একটি বিশেষ পরীক্ষা ( এফএনএসি) করা দরকার বলে উল্লেখ করেছেন তারা মেডিক্যাল রিপোর্টে।

চতুর্থত তার ক্ষুধামন্দা রয়েছে উল্লেখ করে তারা লিখেছেন, যার কারণে তিনি খেতে পারছেন না। তার ভেতরে কিছু হয়েছে কিনা সেটা জানার জন্য এন্ডোসকপি করা প্রয়োজন, একইসঙ্গে কিছু ভ্যাকসিনও দিতে হবে। কিন্তু  এন্ডোসকপি এবং ভ্যাকসিনের বিষয়েও খালেদা জিয়া কয়েকদিন সময় চেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে মেডিক্যাল রিপোর্টে।

এদিকে, মেডিক্যাল রিপোর্টে অ্যাডভান্স মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট বলতে কী বোঝানো হয়েছে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আর্থ্রাটাইটিসের জন্য যে উন্নত মানের থেরাপি প্রয়োজন যেটা বাংলাদেশেই সম্ভব এটাই লিখেছেন চিকিৎসকরা।

 

 

/জেএ/টিএন/

লাইভ

টপ