বাংলা ট্রিবিউনকে একান্ত সাক্ষাৎকারে আব্দুর রহমানআ.লীগের এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে

Send
মাহবুব হাসান
প্রকাশিত : ২০:১৮, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৩, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেছেন, দলের আসন্ন ২১তম সম্মেলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে। সমৃদ্ধির দিকে অগ্রসরমান বাংলাদেশের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারে—এমন একটি শক্তিশালী আওয়ামী লীগ গড়ে তোলা যাবে।

গত রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে নিজ বাসায় বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
শক্তিশালী আওয়ামী লীগের ব্যাখ্যায় দলটির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, এতে অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি তরুণদের সংমিশ্রণ থাকবে। চলমান শুদ্ধি অভিযানের আলোকে স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য, জনপ্রিয়, যোগ্য ও ত্যাগীরা স্থান পাবে। আসন্ন এ সম্মেলনের মাধ্যমে দল ও সরকারকে আলাদা করার প্রক্রিয়া অনেকখানি এগিয়ে যাবে।

আব্দুর রহমানের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রলীগে। তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফরিদপুর-১ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করে এখন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দল থেকে যে চার জন কেন্দ্রীয় নেতা ছাত্রলীগের দেখভাল করছেন তাদের অন্যতম তিনি।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, এবার সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দলকে যুগোপযোগী করে সাজাবেন দলীয়প্রধান। এর অংশ হিসেবেই দল ও সরকার আলাদা করার বিষয়টি খুব জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারকে দলের প্রতি নির্ভরশীল করতে হবে। দল সরকারের প্রতি নির্ভরশীল হবে না, বরং দল সরকার পরিচালনা করবে। এতে সরকারে যারা আছেন বা সংসদ সদস্য যারা আছেন, তারা দলের কাছে জবাবদিহি করবেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের তারা বেশি মূল্যায়ন করতে বাধ্য হবেন। কেননা, এতে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা বাড়বে বলেই আমি আশাবাদী। আর সেজন্য প্রতিযোগিতা করে ভালো পর্যায়ে আসতে হলে নেতাকর্মীদের সামনে প্রমাণ করতে হবে, আমার কতটা ত্যাগ-তিতিক্ষা দলের জন্য রয়েছে, নিজেকে কতটা উৎসর্গ করেছি দল ও নেতাকর্মীদের জন্য। সুতরাং সে ক্ষেত্রে দলের কর্মীদের মাঝে একটা আবেদন সৃষ্টি করবে, আর যার আবেদন সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে তাকেই নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে বলে আমি মনে করি।
আব্দুর রহমানের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রলীগের মাধ্যমে। তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফরিদপুর-১ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করে এখন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দল থেকে যে চারজন নেতা ছাত্রলীগের দেখভাল করছেন তাদের অন্যতম তিনি।

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, দলে ও সরকারে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির দায়িত্ব পালনের বিষয়টি মুখে মুখে আলোচনা হচ্ছে। যতদূর জানি, দলীয়প্রধানের মাথায়ও বিষয়টি রয়েছে। কেননা, একজন মানুষ যদি একাধিক দায়িত্বে থাকেন, তাহলে দুটি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেজন্যই যারা দলের পদে থাকবেন তারা সরকারে দায়িত্ব পাবেন না, আর যারা সরকারের কোনও দায়িত্বশীল পদে থাকবেন তাদের দলীয় পদ দেওয়া হবে না—এমন আলোচনা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতের প্রধানত দুটি দল বিজেপি ও কংগ্রেস। সেখানে কিন্তু এই চরিত্র রয়েছে, যারা সরকারে থাকবেন, তারা দলের কোনও পদে থাকতে পারবেন না।
চলমান শুদ্ধি অভিযান নিয়ে নিজের মত তুলে ধরেন আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের দলের সর্বোচ্চ নেতা, দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দৃঢ় নেতৃত্বে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। সেজন্য তিনি বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। এটা যেমন সরকারে চলছে, তেমনি দলেও। ইতোমধ্যে সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনে তার প্রতিফলন দেখা গেছে। শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রাখতে যদি নেতাকর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করতে হয়, তাহলে অবশ্যই ত্যাগী ও দলের দুঃসময়ে যাদের অবদান রয়েছে তাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব আনতে হবে। কেননা, দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযানের প্রতিফলন যদি না ঘটে, তাহলে তো একটা হতাশা নেমে আসবে। তাই এবারের সম্মেলনে অবশ্যই সেটার প্রতিফলন ঘটবে।
আব্দুর রহমান বলেন, শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে, এটা ধারাবাহিকভাবে চলবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগের এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার দণ্ডিত হওয়া এবং জামিন দেওয়া না দেওয়ার বিষয়টি একান্ত আদালতের। এই জায়গায় আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু করার নেই। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার এই মামলা করেনি। রাজনৈতিক এই বিষয়ে আমাদের নেত্রীর কোনও প্রভাব বিস্তার নেই যে তাকে কারাগারে রাখতে হবে। খালেদা জিয়া অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যেটা প্রমাণিত হয়েছে আদালতে। তাই আদালত তাকে শাস্তি দিয়েছেন। বিএনপি খালেদা জিয়ার তিনবার জামিনের আবেদন করেছে, কিন্তু জামিন হয়নি। জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। তাই আদালত থেকে আইনের মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, এখানে আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও করাটা আমাদের দল বরদাশত করবে না। যদি পরিস্থিতি এমন হয় তাহলে তাদের শক্তহাতে দমন করা হবে।

সম্প্রতি ভারতীয় পার্লামেন্টে এনআরসি এবং ক্যাপ ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগের অন্যতম এই যুগ্ম সম্পাদক বলেন, ভারতের পার্লামেন্টে যে আইন পাস হয়েছে তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। পার্লামেন্টে বিল পাস হয়েছে, এটা সে দেশের জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা পাস হয়েছে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য নেই। কেননা, এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে সম্পর্কে আমাদের কোনও টানাপড়েন নেই। আর দুই দেশের সম্পর্ক খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। কোনও পরিস্থিতির উদ্ভব হলে আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর সমাধান আমরা অতীতেও করে এসেছি, সামনেও করবো।

/এইচআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ