বিষণ্ণতায় ভোগে অভিবাসী নারীকর্মীর শিশু সন্তানেরা: গবেষণা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৫০, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০১, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯

ওকাপের গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম।

৯০ শতাংশ অভিবাসী নারী কর্মীর সন্তান একাকীত্ব বোধ করে। এদের বেশিরভাগই শিশু। মায়ের আদরের অভাবে তাদের এই একাকীত্ব এবং বিষণ্ণতা বলে জানা গেছে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (অকাপ) পরিচালিত এক গবেষণায়। রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে এক সেমিনারে গবেষণার বিস্তারিত তুলে ধরেন সংস্থটির চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম।

শাকিরুল বলেন, ফাউন্ডেশন কারিতাস লুক্সেমবার্গ এবং সিকর্স ক্যাথলিক কারিতাস ফ্রান্সের সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসী কর্মীর আর্থ সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের ৪০০টি পরিবারের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়। যার মধ্যে ২৫০ পরিবার অভিবাসী কর্মীর এবং ১৫০ পরিবার যাদের সদস্য অভিবাসী নয় তাদের ওপর সমীক্ষা করা হয়েছে। সমীক্ষা চালানো শিশুদের বয়সসীমা ছিল ৬-১৭ বছর। গবেষণার মাধ্যমে মূলত ফেলে যাওয়া সন্তানদের ওপর সর্বোপরি রেমিট্যান্সের একটি ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। গবেষণায় জানা যায়, ৮০ শতাংশ পরিবার নারী কর্মীর পাঠানো রেমিটেন্স দিয়ে তাদের আবাসন, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষায় খরচ বাড়িয়েছে। ৮১ শতাংশ নারী কর্মীর রেখে যাওয়া সন্তানরা স্কুলে যায় যার মধ্যে ৭৮ শতাংশ প্রাইমারি স্কুলে যায়। এই সংখ্যা সাধারণ পরিবার থেকে বেশি।

গবেষণায় আরও বলা হয়, ৪০ শতাংশ মেয়ে শিশু এবং ৪৮ শতাংশ ছেলে শিশু শিক্ষা থেকে ঝরে পড়েছে, যার অন্যতম কারণ তাদেরকে বাড়ির কাজে ব্যবহার করা। এছাড়া মায়ের সান্নিধ্য না পাওয়ার কারণে তাদের মধ্যে একাকীত্ব ও বিষণ্ণতা তৈরি হচ্ছে যার ফলে তাদের স্কুলে যাওয়ার হারও কমে যায়। পাশাপাশি ৩০ শতাংশ স্থানীয় অভিভাবকও মনে করেন স্কুলে যাওয়ার চেয়ে বাড়ির কাজ করা বেশি জরুরি।

গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য থেকে আরও জানা যায়, ৩২ শতাংশ শিশুর ১৬ বছরের আগেই স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। যার মধ্যে মেয়ে শিশুর সংখ্যা বেশি। সমীক্ষার তথ্য বলে, ৭০ শতাংশ অভিবাসী নারী কর্মীর শিশু বিগত ১২ মাসের মধ্যে অন্তত একবার অসুস্থ হয়েছে। যেখানে সাধারণ পরিবারের শিশুর অসুস্থ হওয়ার হার কম পাওয়া গেছে। এছাড়া বাল্যবিয়ের প্রবণতা ফেলে যাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে একটি সচরাচর ঘটনা। মায়ের বিদেশে কাজ করার সুবাদে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মেয়ে শিশুদের বাল্যবিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ৬৩ শতাংশ মেয়ে শিশুরা আয়ের জন্য গৃহকর্মীর কাজ করে থাকে আর ৮৩ শতাংশ ছেলে শিশুরা ঘরের ভেতরে ও বাইরে দুই জায়গায় তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য হয়। ৬০ শতাংশ শিশু কাজ না করার জন্য খারাপ ব্যবহারের শিকার হয় পরিবারের সদস্যদের দ্বারাই।

শাকিরুল ইসলাম বলেন, গবেষণায় জানা গেছে, ফেলে যাওয়া এসব শিশুদের মনো-সামাজিক সুস্থতার অবস্থা খুব কঠিন। যারা একদমই কম বয়সের শিশু তারা তাদের মানসিক অবস্থার কথা বোঝাতে পারে না। ১১-১৭ বছরের শিশুরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পেরেছে। সেখানে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশই মায়ের অভাবে একাকীত্ব ও বিষণ্ণতা বোধ করে।

এসময় ফেলে যাওয়া শিশুদের জন্য ৩টি পরামর্শ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে আছে- ফেলে যাওয়া শিশুদের জন্য বিশেষ নীতিমালা রাখা, তাদের জন্য কিছু পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা এবং এই বিষয়ে আরও বিস্তর গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, অকাপের নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক চৌধুরী, আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রবাসী পরিচালক আনিসুর রহমান, বাংলাদেশি অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের (বোমসা) শেখ রুমানা, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ পরিচালক শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

                       

/এসও/টিএন/

লাইভ

টপ