অবৈধভাবে কোটিপতি হওয়ার চেষ্টা করেছিল তুষার

Send
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত : ০৫:৪৭, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৪৭, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯

তুষারস্বপ্ন দেখেছিল দ্রুততম সময়ে অবৈধভাবে কোটিপতি হওয়ার। এজন্য বানিয়েছিল একটি অ্যাপস। ‘সেফ সোর্স বিডি’ নামে সেই অ্যাপসের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহও শুরু করেছিল। লোভ দেখিয়েছিল অধিক মুনাফার। তার এই ফাঁদে পা দিয়েছে প্রায় তিন শতাধিক গ্রাহক। পরিকল্পনা ছিল আরও কিছুদিন অর্থ সংগ্রহের পর অ্যাপস বন্ধ করে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু, তার আগেই সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের কর্মকর্তারা আটক করেছে তাকে। এই তরুণের নাম সৈয়দ তুষার হোসেন। তার বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রতারণা ও অননুমোদিত ব্যাংকিং করার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, ‘অনলাইনে এ ধরনের আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনও বৈধতা নেই প্রতিষ্ঠানটির। সাধারণ মানুষের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে কোটিপতি হওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রতিষ্ঠান চালু করেছিল। আটক হওয়া তুষারের আরেক সহযোগী রয়েছে। তাকেও আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।’

সিআইডি সূত্র জানায়, আটক হওয়া তুষারের গ্রামের বাড়ি খুলনার ফুলতলা থানার পাইগ্রাম কসবায়। স্থানীয় একটি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর আর পড়াশোনা হয়নি তার। কিন্তু যেকোনও উপায়ে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর তুষার এক বন্ধুকে নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ খুলে বসে। এজন্য ‘সেফ সোর্স বিডি’ একটি অ্যাপ তৈরি করে তারা। অ্যাপসে নিজের নাম নিবন্ধন করে সদস্য হয়ে অর্থ বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হয়। এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন ৩শ থেকে ৩৯০ টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার লোভ দেখানো হয়।

সিআইডির কর্মকর্তারা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে

অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে তারা তিন শতাধিক সদস্যের নাম নিবন্ধন করেছিল। নিবন্ধিত সদস্যরা একশ টাকা থেকে কেউ কেউ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছে। সিআইডির কর্মকর্তারা বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে একজনের টাকা আরেকজনকে মুনাফা হিসেবে দিয়ে সদস্যদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছিল। যাতে সদস্যরা আরও বেশি বিনিয়োগ করে। বিনিয়োগের নামে কোটি টাকা হাতে আসার সঙ্গে-সঙ্গেই অ্যাপসটি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

সিআইডির একজন কর্মকর্তা জানান, কথিত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সেফ সোর্স বিডির কর্নধার সৈয়দ তুষার হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্বাভাবিক মুনাফা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল। এক লাখ টাকায় মাসে এক লাখ ৪২ হাজার ৩৫০ টাকা করে দেওয়া হবে। অনেকেই না বুঝে তাদের এই প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়। কথিত এই প্রতিষ্ঠানের মিরপুরে নিজস্ব কার্যালয় থাকার কথা বলা হলেও এক রুমের একটি কক্ষ রয়েছে। সেখানে কোনও সাইনবোর্ড বা ভেতরে তেমন আসবাপত্র বা অন্য কোনও কর্মচারীও ছিল না।

সিআইডির কর্মকর্তারা বলেন, সাধারণ ব্যংকিং সুদের হার সাধারণাত ১০ শতাংশের কম হয়ে থাকে। ‘সেফ সোর্স বিডি’র এভাবে বিনিয়োগের নামে অর্থ সংগ্রহের বৈধ কোনও অনুমোদন নেই। কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা এনজিও সরকারি অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। অতীতে এ ধরনের অনুমোদনহীন ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে বহু মানুষ সর্বশান্ত হয়েছে। অধিক লাভের আশায় এ ধরনের অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ না করার জন্য সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনার মুখোমুখি হলে সিআইডির অনলাইন ও সাইবার মনিটিরিং সেলে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

 

/এনআই/

লাইভ

টপ