নাফ নদীতে নজরদারি বাড়াতে উন্নতমানের স্পিড বোট কিনবে বিজিবি

Send
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
প্রকাশিত : ২৩:৩৪, জানুয়ারি ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫২, জানুয়ারি ০২, ২০২০

নাফ নদীতে নজরদারি বাড়াতে উন্নতমানের স্পিড বোট কিনবে বিজিবি

নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানের পরও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার বন্ধ হচ্ছে না। পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সীমান্তবর্তী নাফ নদী। আধুনিক ও উন্নতমানের স্পিডবোট না থাকায় নাফ নদীর অনেক এলাকায় টহল দিতে পারছে না বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যে কারণে নাফ নদীপথে মাদক পাচার প্রতিরোধে উন্নতমানের স্পিডবোট কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি’র একাধিক কর্মকর্তা জানান, দেশের চার হাজার ৭২৭ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে মিয়ানমার সঙ্গে সীমান্ত এলাকা রয়েছে ২৭১ কিলোমিটার। এর মধ্যে নাফ নদী অন্যতম। এ পথে নানা অপকৌশলে মাদক পাচার করছে চোরাকারবারিরা। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নাফ নদীকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে মিয়ানমারের স্থল এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ারও পরিকল্পনাও রয়েছে বাংলাদেশের। এবছর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ কাজে হাত দিয়েছে সরকার।

কর্মকর্তারা আরও জানান, বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় নাফ নদীতে চোরাকারবারিদের প্রতিহত করতে প্রয়োজন উন্নতমানের স্পিডবোট। যা বর্তমানে বিজিবি’র কাছে নেই। ফলে নদীতে পর্যাপ্ত টহল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে, সাতক্ষীরা অঞ্চলের লীলডুমুর ও সুন্দরবন অংশের ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার নদীপথেও একই অবস্থা। দেশের সীমান্ত এলাকায় নদীপথগুলো সুরক্ষিত ও অপরাধমুক্ত রাখতে হলে এসব এলাকায় বিজিবি’র পর্যাপ্ত টহল প্রয়োজন। এজন্য উন্নতমানের স্পিডবোট দরকার।

উন্নতমানের স্পিডবোট কেনার প্রক্রিয়া চলছে উল্লেখ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সীমান্তে অপরাধ দমন,অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচারসহ চোরাচালান বন্ধে কাজ করছে বিজিবি। তবে নদীপথগুলো বিশেষ করে সীমান্তের নাফ নদীতে, ভারত-বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকায় এবং পদ্মা নদীতে টহল দিতে উন্নতমানের স্পিডবোট প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সীমান্ত এলাকায় নতুন আরও ৭৩টি বিওপি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও সীমান্তের স্থলপথের অংশে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এসব সড়ক হয়ে গেলে দেশের পুরো সীমান্ত আরও সুরক্ষিত হবে। এতে আরও বেশি এলাকা টহল দেওয়া বা নজরদারির আওতায় আনা যাবে।’

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে- বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি’র ৬৯৬টি বিওপি রয়েছে। তবে দেশের পুরো সীমান্ত এলাকা অধিক নিরাপদ ও নজরদারিতে রাখতে আরও বিওপি প্রয়োজন। ঘনঘন বিওপি থাকলে সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারি ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিজিবি’র পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২১৭ কিলোমিটার এলাকায় বেশিকিছু বিওপি রয়েছে। তবে সামান্য কিছু জায়গা অরক্ষিত থাকলেও বেশিরভাগ জায়গা সুরক্ষিত। এছাড়া ভারতের পাশেও যেসব সীমান্ত এলাকা অরক্ষিত রয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে সেগুলোও সুরক্ষার ভেতরে নিয়ে আসা হবে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।’

 

/এমআর/টিএন/

লাইভ

টপ