ধর্ষককে ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি সভ্যতার অন্তরায়: এইচআরএফবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:০১, জানুয়ারি ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০২, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

ধর্ষণধর্ষককে ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি সভ্যতার অন্তরায় বলে মন্তব্য করেছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। সংগঠনটি এই প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে।  

এইচআরএফবি জানায়, আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ স্থান জাতীয় সংসদে এ ধরনের আলোচনায় তারা স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ। আইন প্রণেতারা নিজেরাই যখন আইন ভঙ্গ করার কথা বলেন, তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় পড়তে বাধ্য। একটি সভ্য, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এমন চিন্তা-ভাবনার চর্চা অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

এইচআরএফবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের অনির্ধারিত আলোচনায় মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সরকারি ও বিরোধী দলের সিনিয়র নেতারা ধর্ষককে সরাসরি ক্রসফায়ারে দিয়ে হত্যার দাবি জানান। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্ষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় এটা অবশ্যই করণীয়। তারা মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ‘ক্রসফায়ার’র নজির দেখিয়ে ধর্ষণরোধেও একই নীতি প্রয়োগের ওপর জোর দেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে ‘ক্রসফায়ার’-এর মতো অমানবিক ও নিষ্ঠুর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও আইন ভঙ্গ করার প্রবণতা তৈরি করছে। সিনিয়র নেতারা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এমন অবিবেচনাপ্রসূত বক্তব্য দিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে তারা একইসঙ্গে স্বীকার করে নিয়েছেন সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘ক্রসফায়ারে’র নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। অথচ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনী সবসময় দাবি করে এসেছে, কেবল আত্মরক্ষার্থে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হচ্ছে। দৃশ্যত রাষ্ট্র নিজেই আইন-আদালত ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করছে। যা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়াসকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।

সংসদে আইন প্রণেতাদের এ সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি জানিয়ে এইচআরএফবি বলেছে, যেকোনও ব্যক্তির বিচার লাভের অধিকার বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে স্বীকৃত। সংবিধানে আরও বলা আছে, কাউকেই বিনা বিচারে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলাদিতেও এ অধিকার স্বীকৃত, যেগুলো বাংলাদেশ অনুমোদন করেছে। ফোরাম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ধর্ষণের মতো ঘৃণ্যতম সামাজিক অপরাধ দমনে হাতিয়ার হিসেবে ‘ক্রসফায়ারে’র ব্যবহার কার্যকর কোনও অবদান রাখবে না। বরং আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথকে বাধাগ্রস্ত করবে।

 

/জেইউ/এনআই/

লাইভ

টপ