পুঁজিবাজার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন ফিরোজ রশীদ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৩৯, জানুয়ারি ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৭, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

জাতীয় সংসদ (ছবি- সাজ্জাদ হোসেন)শেয়ার বাজার বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যদি প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেন, তবে বাজার ফিরে আসতে পারে।’

এ সময় ফিরোজ রশীদ বলেছেন, ‘‘পত্রিকায় নিউজ হচ্ছে শেয়ার বাজার নিয়ে। আজকে শিরোনাম হয়েছে ‘মাটিতে শুয়ে গেছে শেয়ারবাজার।’ বিক্ষোভ করছেন বিনিয়োগকারীরা। শেয়ার মার্কেট নিয়ে কেন এমন হলো? বিশেষজ্ঞরা বলছেন মার্কেটে সুশাসনের অভাব। বিনিয়োগকারীরা ভরসা পাচ্ছেন না। এটা বাজারের জন্য অশনি সংকেত।’’

সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইইসি) সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শেয়ার মার্কেট ডিমিউচুয়ালাইজেশন হয়ে গেছে। আমাদের কাছ থেকে সাত বছর ট্যাক্স নেওয়া হবে না বলা হলো। কিন্তু দুই বছর পর আমাদের ওপর ট্যাক্স আরোপ করা হচ্ছে। এই যে শেয়ার মার্কেটের অবস্থা, একমাত্র কারণ দুর্বল কোম্পানিকে শেয়ার বাজারে লিস্টিং দেওয়া হয়েছে। কিছু মার্চেন্ট ব্যাংক এসব দুর্বল কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসছে। বিনিয়োগকারীদের রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছে। এসইসি যারা দেখাশেনা করবে, তারা পচা কোম্পানিগুলো গছিয়ে দিচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। এই কোম্পানির শেয়ার নেমে ৭, ৮, ১০ টাকায় নেমে আসে। মূল দামের নিচে চলে আসে। বিনিয়োগকারীরা শেষ হয়ে যাচ্ছেন। ১০ টাকার শেয়ার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পরে ১৫ টাকায় নেমে এসছে। বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় বসে গেছেন।’

ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘প্রশান্ত হালদার নামে একটা লোক নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান করে তিন হাজার পাঁচশ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। তিনি এখন উধাও। এভাবে টাকা চলে যাচ্ছে, কার জবাব কে নেবে, কার জবাব কে দেবে? কোনও জবাবদিহি নেই।’

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘মন্ত্রীরা বিপর্যয় দেখতে পান না। তারা বলেন সংকট নেই। আমরা হতভম্ভ হয়ে যাই, বিস্মিত হয়ে যাই। এক সপ্তাহ ধরে মানুষ শেয়ারবাজারের জন্য রাস্তায় শুয়ে পড়েছেন। কান্নায় বিপর্যস্ত। লাখ লাখ পরিবার ধুলায় মিশে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকার দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে আমরা আশ্বস্ত হতে পারছি না। পত্রিকায় খবর এসেছে, বিদেশি বিনিয়োকারীরা চলে যাচ্ছেন অথচ আমরা আজ মুজিববর্ষ পালন করছি, বলছি দেশে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এত উন্নতি, চারদিকে বিশাল বিশাল স্থাপনা বানাচ্ছি, অথচ অর্থনীতির কী বিপর্যয় অবস্থা। বিনিয়োগকারীরকে রক্ষার জন্য অর্থমন্ত্রী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?’

সম্প্রচারে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগ

সংসদে বিএনপির দেওয়া বক্তব্য সম্প্রচারে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে কথা হয়েছে। আমি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছিলাম। দুজন সিনিয়র সংসদ সদস্য জবাব দিয়েছেন। আমি বাইরে গিয়ে চেষ্টা করলাম। বলা হলো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সম্প্রচার ছিল না, কোথাও আমরা ওই বিষয়টা খুঁজে পাচ্ছি না। প্রতিনিয়ত সংসদ লাইভ প্রচার করা হয়। আমরা মাত্র কয়েকজন সদস্য আশঙ্কা করতেই পারি, আমাদের কথা বলার সময় যদি প্রচার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ধরে নেবো কথাগুলো প্রচারে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখানে সংসদ নেতা আছেন। প্রতিনিয়ত পত্রিকায় নিউজ হচ্ছে হুমকি ধামকি, প্রচারে বাধা দেওয়ার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পোস্টার টানাতে বাধা দিচ্ছেন। এগুলো সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের পথে অন্তরায়। এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে জবাবদিহিমূলক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। সিলেকটেড মেয়রদের হাতে ক্ষমতা দিলে হবে না।’

/ইএইচএস/এএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ