রাষ্ট্রপতির ঐক্যের ডাক প্রহসন: রুমিন ফারহানা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৩৯, জানুয়ারি ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৫, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (ফাইল ছবি) সংসদে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতির ঐকমত্যের ডাককে প্রহসন বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছামতো চলে বলেই খালেদা জিয়া জামিন পান না। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে, বিএনপির এক লাখ কর্মীর নামে মামলা দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহারের মাধ্যমে জাতিকে বিভাজন করে, ভিন্নমত দমন করে রাষ্ট্রপতির জাতীয় ঐকমত্যের ডাক জাতির সঙ্গে প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।’

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর নিয়ে আসা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘চরম অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। গত এক বছরে অর্থনীতির সামষ্টিক সূচকগুলো ক্রমাগত খারাপ হতে হতে এখন বিপজ্জনক অবস্থায় আছে। শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা একটা মন্দার পূর্বাভাস দিচ্ছেন। এটা নিয়ে কোনও দিকনির্দেশনা নেই ভাষণে। গত এক দশকে গত বছর প্রথম রফতানি আয় আগের বছরের চেয়ে কমেছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে। বেসরকারি বিনিয়োগ পরিস্থিতি খারাপ। শেয়ার বাজার ধসে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আর শেয়ার বাজার ধ্বংস- এটা সমর্থক। ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের পর এখন আবার শেয়ার বাজার ধসে পড়েছে। বাজারের সূচক চার বছরে সর্বনিম্ন। শেয়ার বাজার সবচেয়ে বড় ক্যাসিনো। লাখ লাখ মানুষকে পথে বসানো হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাকস্বাধীনতা হুমকির মুখে। বিজ্ঞাপনদাতাদের চাপ দিয়ে গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভয়ে মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলতে পারছে না। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ, মতিউর রহমান, মাহফুজ আনামের মতো প্রখ্যাত সাংবাদিকেরা সেলফ সেন্সরশিপের কথা বলছেন।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বলেছেন একাদশ সংসদ নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। এর আগের বছরও রাষ্ট্রপতি একই বক্তব্য দেন। সুজন, টিআইবি, বিদেশি পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যম, আওয়ামী লীগ ছাড়া সব রাজনৈতিক দল তীব্র সমালোচনা করেছে; সেই নির্বাচনের ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্যতা আছে বলে কেউ মনে করে না। এই নির্বাচন বিশ্বের বুকে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিভিন্ন দেশে নানা কারচুপি হয়েছে। কিন্তু আগের রাতে ভোট দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের নজির নেই। সম্ভবত রাষ্ট্রপতি আগামী বছরও একই কথা বলবেন। কারণ, যে কথা মানুষ নিজে বিশ্বাস করেন না, কিন্তু অন্যকে বিশ্বাস করাতে চান, তা বারবার বলেন।’

আওয়ামী লীগ আর দুর্নীতি সমার্থক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক তথাকথিত শুদ্ধি অভিযানে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের তৃতীয় চতুর্থ সারির নেতারা হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন। কোটি কোটি টাকার বান্ডিল পাওয়া গেছে। এর থেকে বোঝা যায় ওপরের সারির নেতাদের কী অবস্থা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইন ও বিচার ব্যবস্থা চলে সরকারের মর্জিমতো। খালাস এবং দণ্ড হয় সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী। ফেসবুকে ভাইরাল হলে, চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলে এবং অভিযুক্ত প্রভাবশালী না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।’

আরও খবর: ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বৈধতা পাওয়ার শঙ্কা রুমিনের 

 

/ইএইচএস/এএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ