চৈতালী বাসে শিক্ষার্থী না উঠানোর প্রতিবাদ করায় সিনিয়রকে মারধর

Send
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:৩২, জানুয়ারি ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০১, জানুয়ারি ২১, ২০২০

অভিযুক্ত ঢাবি শিক্ষার্থী আমিনুলঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চৈতালী বাসে শিক্ষার্থীদের উঠতে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করায় জুনিয়র শিক্ষার্থীর হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন এক সিনিয়র শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকালে বাসটি শিক্ষার্থী নিয়ে ক্যাম্পাসের স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে পৌঁছালে বাস থেকে নামার সময় ওই সিনিয়র শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন। ইতোমধ্যে ঘটনার বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, সিনিয়রকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ঢাবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আমিনুল ইসলাম। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলায়। ঢাকা রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন তিনি। অন্যদিকে প্রতিবাদকারী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. জামিত। তিনি মনোবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

জামিত জানান, সকাল সাড়ে ৯ টায় তিনি ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য চৈতালী বাসে ওঠেন। বাসটি শ্যামলী বাস স্টপেজে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসে ওঠার জন্য ইশারা দেন। তবে বাসে থাকা আমিনুল বাসটি থামাতে দেননি। পরে জামিত এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন এবং আমিনুলের কাছে বাসটি কেন থামাতে দেননি তা জানতে চান। এতে আমিনুল ক্ষুব্ধ হন এবং জামিতের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। এক পর্যায়ে জামিত নিজেকে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিলে আমিনুল তার পরিচয়পত্র দেখতে চান। তখন জামিতও পাল্টা আমিনুলের পরিচয়পত্র দেখতে চান। আমিনুল তার পরিচয়পত্র দেখিয়ে জামিতের পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে দেখতে চান। তবে জমিত তার পরিচয়পত্র আমিনুলের হাতে দিতে অনিচ্ছাপ্রকাশ করেন। এসব নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে জামিতকে চলন্ত বাস থেকেই নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন আমিনুল।

পরে জামিত বাস থেকে না নেমে দ্বিতীয় তলায় চলে যান। আমিনুল সেখানে গিয়েও তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করন। বাসটি ক্যাম্পাসের স্মৃতি চিরন্তনে চত্বরে পৌঁছালে বাস থেকে নামার সময় জামিতকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন আমিনুল।

জামিত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি শুধু আমিনুলকে বলেছিলাম, বাসটি থামালে কয়েকজন শিক্ষার্থী উঠতে পারতো, তাদেরও তো ১১টায় ক্লাস আছে। এরজন্য আমাকে সবার সামনে মারা হলো। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। এর জন্যই একজন জুনিয়র আমাকে মারধর করবে! আমি এর উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। প্রয়োজনে ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করবো।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আমিনুলকে একাধিকবার ফোন দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। দু’পক্ষকে ডেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

/টিটি/

লাইভ

টপ