বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের খরচ বাঁচাতে সরকারের আগ্রহ নেই: গণপূর্তমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:১৩, জানুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫২, জানুয়ারি ২২, ২০২০





গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘ভবন ভাঙার দায়িত্ব নিয়ে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ যে প্রক্রিয়ায় করতে চেয়েছিল, তা অনিশ্চিতকাল ধরে চলতে পারতো। ফলে আমরা মনে করি, রাষ্ট্রের দুটি টাকা বড় কথা নয়। বড় কথা এই জায়গাটিকে পরিষ্কার করা। আর এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনও টাকাও ব্যয় হচ্ছে না। যারা এই ভবনটি ভাঙছেন, তারাই রাষ্ট্রকে টাকা দিচ্ছে। এটা বিজিএমইএ’কে বাঁচানোর কোনও বিষয় নয়।’
বুধবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, পরিবেশবিদদের দাবি ছিল ভবনটি যেন বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষই ভাঙে। এখন সরকার ভাঙছে। বিজিএমইএ-এর টাকা বাঁচানোর জন্য রাজউক ভাঙছে কিনা? এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কারো টাকা বাঁচানোর জন্য শেখ হাসিনা সরকারের কোনও আগ্রহ নেই। বরং বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় যাতে বিঘ্ন ছাড়া ব্যবসা করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে এই ভবন ভাঙার বহু আগে প্রস্তুতি থাকার পর বিজিএমইএ-কে তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, পোশাক আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় একটি খাত। আমরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছি, তারা ভেঙে নিচ্ছে না। তাহলে আমরা কি আরও অপেক্ষা করবো? সরকারের দায়িত্ব জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য যেটা করণীয় সেটা করা। সর্বোচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। এটা ভাঙার দায়িত্ব আমাদের।’
রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের সুন্দর ঢাকার দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিলের ওপর অপরিকল্পিত ও বেআইনিভাবে বিজিএমইএ ভবনটি গড়ে উঠেছিল। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এটি অপসারণ করার পরিকল্পনা নিই। আমরা পত্রিকায় টেন্ডারে বিজ্ঞাপন দিয়েছি।’
ভাঙার দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও কোন অনিয়ম হয়নি দাবি করে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোচ্চ দরদাতা তাদের টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর আমরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে ভবন ভাঙার দায়িত্ব দিয়েছি। তারা ৬ মাসের মধ্যে ভবনটি অপসরণ করবেন।’
তিনি জানান, অপসারণ কার্যক্রম দেখভাল করার জন্য বুয়েটের প্রতিনিধি, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, রাজউকের প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধি টিম থাকবে। এমনকি নগর ও ইমারত বিশারদদের নিয়ে একটি টিম করা হয়েছে। তার সার্বক্ষণিকভাবে এই কর্মকাণ্ড দেখভাল করবেন।
তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই যাতে র‌্যাংগস ভবনের মতো প্রাণহানি না ঘটে, পরিবেশ বিপন্ন না হয়, সেজন্য সব প্রস্তুতি আমরা রেখেছি। আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় কোনও উপায়ে ভবনটি ভেঙে ফেলা যায় কিনা। কিন্তু বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ও ভেবেচিন্তে দেখা গেলো, এই ভবনের পাশে ফাইভ স্টার হোটেলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আছে। ওভাবে ভবন অপসারণ করতে গেলে তার যে গতিবেগ বা শক্তি তা চারদিকে থাকা ভবনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ধুলো বাতাসে ছড়িয়ে পরিবেশও নষ্ট হতে পারে। সেজন্য আমরা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভাঙার প্রস্তুতি নিয়েছি।’
এ সময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব বিষয় অবহিত থেকেছেন, তার নির্দেশনার আলোকে এটাকে অপসারণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী আশা করেন, ভবনটি অপসারণের পর হাতিরঝিলের পানির গতি স্বাভাবিক হবে। নয়নাভিরাম হাতিরঝিল সবাই দেখতে পাবেন। হাতিরঝিলে আগের মতো দুর্গন্ধ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক বাড়ির পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ গোপনে হাতিরঝিলে সংযোগ দেওয়ার মতো দায়িত্বহীন কাজ করা হয়েছিল। আমরা সব লাইন বন্ধ করেছি। আমরা অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রযুক্তি নিয়ে এসেছি, সেটি ব্যবহার করে পানি প্রতিদিন প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। কোনও দুর্গন্ধ আর আসবে না।’
হাতিরঝিলের সব অবৈধ স্থাপনা সরানো হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
যারা ভবনটির অনুমোদন দিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, জানতে চাইলে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে একবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, একবার উদ্বোধনের মতো ঘটনা ঘটেছে। ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে রোগ সারাতে হবে। রোগ কী কারণে হয়েছে, সেটা আমরা গবেষণা করবো। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দুর্নীতি ও অনিয়মবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। যেখানে যে অনিয়ম আছে আমরা তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবো। কাউকে ছাড় দেবো না।’
দুজন প্রধানমন্ত্রী (সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন, একজন মন্ত্রী সেটি ভাঙার কাজ উদ্বোধন করলেন। এ বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন? এমন প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনার মন্ত্রিসভার একজন সদস্য। এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। তার বক্তব্য, কোনও অবৈধ স্থাপনা থাকবে না। আমরা তার হয়েই কাজ করছি।’

আরও পড়ুন...

বিজিএমইএ ভবন ভাঙা শুরু 

দেশীয় পদ্ধতিতেই ভাঙা হচ্ছে বিজিএমইএ ভবন

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার খরচ দেবে কে?

বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে ফের অনিশ্চয়তা

বিজিএমইএ ভবন অপসারণ: অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে রাজউক

উত্তরায় যাচ্ছে বিজিএমইএ ভবন

/এআরআর/এইচআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ