নোট-গাইড বন্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ২১:৩১, জানুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৫, জানুয়ারি ২২, ২০২০

দ্বিতীয শ্রেণির গাইড বইশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নোট ও গাইড বইসহ অতিরিক্ত বই ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এবং প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর মনিটরিং জোরদারসহ সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের মাঠ কর্মকর্তাদের মনিটরিং জোরদার ও দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রতি বছর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নোট-গাইডসহ কারিকুলামের বাইরের বই পড়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা কোনও কাজে আসেনি। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কোনও ধরনের নোট ও গাইড বই ব্যবহার না করার নির্দেশনা রয়েছে অনেক আগে থেকেই। এছাড়া অন্যান্য ক্লাসের জন্য গত কয়েক বছর একই নির্দেশনা দিচ্ছে এনসিটিবি। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নোট ও গাইড নির্ভর হয়ে পড়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) নোট ও গাইড বইসহ কারিকুলামের বাইরের অতিরিক্ত বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না পড়ানোর জন্য নির্দেশনা জারি করে।

নির্দেশনা জারির পর বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর নীলক্ষেতে বইয়ের দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির নোট ও গাইড বইয়ে প্রায় সব লাইব্রেরি ঠাসা।

অনার্সের গাইড বই ও সাজেশননীলক্ষেত মার্কেটের বিভিন্ন লাইব্রেরি ঘুরে দেখা গেছে সেখানে ৯০ শতাংশেরও বেশি নোট ও গাইড বই বিক্রি হচ্ছে। লাইব্রেরিগুলোতে লেকচার, পাঞ্জেরী ও ফুলকুড়ি প্রকাশনীসহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির গাইড বই রয়েছে। এছাড়া অনার্স ক্লাসের জন্য ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের ইতিহাস’ মূল বইয়ের বিপরীতে বের করা হয়েছে গাইড বই। ব্যতিক্রম প্রকাশনীর এই গাইড বইটিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে প্রচ্ছদে। মূল বইয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গাইড বইটি করা হয়েছে।

এছাড়া বইয়ের দোকানগুলেতে কাজল ব্রাদার্স, দিকদর্শন, রয়েল সায়েন্টিফিক, নবদূত, জ্ঞানগৃহ মিলেনিয়াম, আদিলসহ বিভিন্ন প্রকাশনীর নোট ও গাইড বই দেখা গেছে।

নোট ও গাইডের চাহিদা বিষয়ে নীলক্ষেতের এক লাইব্রেরি দোকানের মালিক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নোট ও গাইড বই চলে। শিক্ষকরাই নোট ও গাইডের ওপর নির্ভরশীল। রাজধানীর নামকরা স্কুলগুলোতেও শিক্ষকরা ক্লাসে সময় কম দেন। আর শিক্ষার্থীদের গাইড কিনতে নির্দেশ দেন। দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই ঘটনা ঘটছে। প্রকাশকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বইয়ের দোকানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নোট ও গাইড বিক্রির প্রতিযোগিতা করছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদের লোকজন আসছেন নোট ও গাইড কিনতে। কারণ ক্লাসে না পড়িয়ে শিক্ষকরা কোন নোট ও গাইড কিনতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।’

দোকানে নোট ও গাইড বই বেশি কেন জানতে চাইলে মিথুন বুক (ফয়েজ) লাইব্রেরির মালিক ফয়েজ বলেন, ‘শুধু মূল বই বিক্রি করে তো আর ব্যবসা চলে না। তাই নোট ও গাইড রেখেছি বেশি।’

এ চিত্র তুলে ধরলে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, প্রতিবছরই আমরা কারিকুলামের বাইরে বই না পড়ানোর জন্য বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছি। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাঠদানে নোট ও গাইড বই ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ এসেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে কথা বলেছি।

অনার্সের গণিত সাজেশনমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও কলেজ) অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, ‘নোট ও গাইডের চাহিদা থাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমরা এবার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটর করবো। কোনও প্রতিষ্ঠান নোট-গাইড পড়তে ও শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করলে বা অনুপ্রেরণা দিলে প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এসময় তিনি বলেন, কোনও নোট বা গাইড বইয়ের প্রচ্ছদে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপার অনুমতি নেই। এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহেদুল খবির আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নোট ও গাইড বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষা আইন হয়ে গেলে নোট গাইড পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. ফসিহ্উল্লাহ বলেন, ‘প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেই। সেখানে নোট বা গাইড কেন প্রয়োজন। প্রাথমিকের কোনও ক্লাসেই কারিকুলামের বাইরের বই পড়তে দেওয়া হবে না। আমরা মাঠ পর্যায়ে খোঁজ-খবর নেবো। কোনও প্রতিষ্ঠানে যদি কারিকুলামের বাইরের বই পড়ানো হয়, শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করা হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/টিটি/

লাইভ

টপ