সরকারি স্থাপনায় ‘ব্লক’ ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

Send
জামাল উদ্দিন
প্রকাশিত : ১০:৪৪, জানুয়ারি ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫০, জানুয়ারি ২৪, ২০২০

ব্লক দিয়ে তৈরি হচ্ছে দালান, ছবি- সংগৃহীপরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সব সরকারি স্থাপনায় পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে ২০২৫ সালের মধ্যে ‘ব্লক’ ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোন অর্থবছরে কতভাগ ব্লক ব্যবহার করতে হবে, সেটারও লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে বিষয়টি টেন্ডারে যুক্ত করতে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে সরকারের সব অফিসে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটা পরিচালনায় দূরত্ব সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এছাড়াও নিয়ম ও পরিবেশ আইন না মেনে যেসব ইটভাটা করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশে অভিযান চালাচ্ছে পরিবেশ অধিদফতর।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পোড়া ইটের বদলে ব্লক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়। ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) বিল-২০১৩’ সংশোধনের জন্য সংসদে একটি বিল উত্থাপন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। সংসদে সেই বিল পাস হওয়ার পর একই বছরের ২৪ নভেম্বর মন্ত্রণালয় থেকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ধারা ৫(৩ক) এ দেওয়া ক্ষমতাবলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মাটির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে কমানোর উদ্দেশ্যে সব সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজে ভবনের দেয়াল ও সীমানা প্রাচীর, হেরিং বোন বন্ড রাস্তা এবং গ্রাম সড়ক টাইপ-বি’র ক্ষেত্রে ইটের বিকল্প হিসেবে ২০২৫ সালের মধ্যে ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়।

গত নভেম্বরে (২০১৯) নির্দেশনা জারির পর ২০২০ সালের মধ্যে ১০ ভাগ, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ২০ ভাগ, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৩০ ভাগ, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৬০ ভাগ, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ৮০ ভাগ এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে শতভাগ ব্লক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই আইনের সংশোধিত অন্যধারার ক্ষমতাবলে সরকার উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটা পরিচালনার ক্ষেত্রে দূরত্ব সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা শিথিল করে। ৬ জানুয়ারি (২০২০) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা সদর, আবাসিক এলাকা, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, বাগান, জলাভূমি, কৃষি জমির সীমারেখা থেকে এবং আইনে উল্লিখিত বিশেষ কোনও স্থাপনা, রেলপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ কোনও স্থান বা প্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে ৪০০ মিটার দূরত্বের বাইরে বিদ্যমান উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটা পরিচালনা করা যাবে।

এজন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বেশ কিছু উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটা পরিদর্শন করেছেন। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) আলমগীর মুহম্মদ মনসুর উল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পোড়া ইটের বদলে ব্লক ব্যবহারের জন্য শুধুমাত্র আপাতত সরকারি অফিসগুলোকে বলা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাস্তবায়নের পর ব্লক উৎপাদন বাড়লে তখন আমরা আস্তে আস্তে বেসরকারি খাতে বলবো। আমরা কয়েকটা ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে এসেছি, দেখলে বুঝাই যাবে না যে, এটা একটা ইটভাটা। এটা একটা ইন্ডাস্ট্রির মতো। এখান থেকে কোনও ধোঁয়া বের হয় না। বর্তমানে এ ধরনের উন্নত প্রযুক্তির ৩২টি ইটভাটা চালু রয়েছে।’

ব্লক ব্যবহারকে উৎসাহিত করতেই ইটভাটাগুলোতে অভিযান কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না। হাইকোর্টের নির্দেশ এবং আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে নিয়ম ও আইন না মানা ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ