নিউমোনিয়ায় বাংলাদেশে ঘণ্টায় মারা যাচ্ছে এক শিশু

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:০৫, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৫, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২০

অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, অপুষ্টি ও বায়ুদূষণ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর কারণ। যার ফলে ২০১৯ সালে বাংলাদেশে নিউমোনিয়ায় প্রতি ঘণ্টায় একজন শিশু মারা যাচ্ছে। এ কারণে বিশ্বের প্রথম নিউমোনিয়া বিষয়ক গ্লোবাল কনফারেন্সে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যু হার কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ( ৬ ফেব্রুয়ারি) সেভ দ্য চিলড্রেন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯-৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত এই ‘গ্লোবাল নিউমোনিয়া ফোরাম’ এ বাংলাদেশ থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যাটারনাল, নিউনেটাল, চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলোসেন্স প্রকল্পের লাইন ডিরেক্টর শামছুল হক এবং ন্যাশনাল নিউবর্ন হেলথ প্রোগ্রাম অ্যান্ড আইএমসিআই’র প্রোগ্রাম ম্যানেজোর শরীফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র পাবলিক হেলথ প্রফেশনাল ডা. গোলাম মোতাব্বির।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও সেভ দ্য চিলড্রেন যৌথভাবে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশে ১০ বছরে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার শিশুকে নিউমোনিয়া ও অন্যান্য বড় রোগের কারণে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।
নিউমোনিয়া বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর একটি শীর্ষস্থানীয় কারণ এই রোগের দেশের ১৩ শতাংশ শিশু মৃত্যুবরণ করে যাদের বয়স পাঁচ বছরেরও কম জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তবে নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে সঠিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে, আগামী দশকের মধ্যে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুমৃত্যু হার কমানো সম্ভব।

গ্লোবাল ফোরামে জাতীয় সরকারি অধিবেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে শামছুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার একটি ট্র্যাক এবং ২০২৫ সালের মধ্যে নিউমোনিয়া জনিত কারণে শিশু মৃত্যুহার কমাতে জিএপিপিডি লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।’
শরীফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘পুষ্টিহীনতার ঘাটতি পূরণ এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি আমরা একটি জাতীয় নিউমোনিয়া প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কৌশলের লক্ষ্য গ্রহণ করেছি যাতে করে টিকাদানের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ও সঠিক যত্ন নিশ্চিত করা হবে।’
নিউমোনিয়া গ্লোবাল ফোরাম থেকে ফেরার পর ডা. গোলাম মোতাব্বির বলেন, ‘বুকের দুধ খাওয়ানোর হার বৃদ্ধি এবং পুষ্টিহীনতার হ্রাস পাওয়ার ফলে শুধু নিউমোনিয়া কমানোর ক্ষেত্রেই নয় বরং সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ অর্জনেও অবদান রাখছে। সেভ দ্য চিলড্রেন এবং আমাদের অংশীদাররা দুর্বল জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে, নিউমোনিয়া বিষয়ক অর্থ নিয়ন্ত্রণ ও সকলের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিতের মাধ্যমে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে প্রক্রিয়াগুলি ট্র্যাক করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করে যাবে।“
উপযুক্ত পরিষেবা সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিতের মাধ্যমে, নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে জীবনরক্ষক চিকিৎসা প্রদান ও কমিউনিটি পর্যায়ে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবং পর্যাপ্ত ও সঠিক যত্ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সহজেই নিউমোনিয়া জনিত মৃত্যু রোধ করা যায়।’

/জেএ/এআর/

লাইভ

টপ