কাশি শিষ্টাচার

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ১২:৪৭, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৫, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

বাংলাদেশে এখনও নতুন করোনা বা কভিড-১৯ ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু করোনা ভাইরাসের এখনও কোনও ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি, তাই  আপাতত এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো পারসোনাল প্রটেকশন। কাশি  বা হাঁচির সময় টিস্যু ও কাপড় দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে। অর্থাৎ কাশি শিষ্টাচারকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে, চীনের উহান থেকে ফিরে আসা ৩১২ বাংলাদেশি আশকোনা হজ ক্যাম্পে  ১৪ দিনের ‘ইনকিউবিশন পিরিয়ড’-এ  আছেন। আগামী শনিবার অথবা রবিবার সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান  (আইইডিসিআর)। একই কথা জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকও।  তিনি বলেন,  ‘এখানে ( আশকোনা হজ ক্যাম্প) আর কোনও সমস্যা নেই, কেউ করোনাতে আক্রান্ত নন। বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত নতুন করোনা বা কভিড-১৯ আক্রান্ত কোনও রোগী শনাক্ত হননি।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই ‘ডেডলি ডিজিজ’ এর কোনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে তারা জানান, ভ্যাকসিন পেতে সময় লাগবে আরও ১৮ মাস। তাই এ রোগের একমাত্র প্রতিরোধ ‘পারসোনাল প্রটেকশন’— যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কাশি শিষ্টাচার। এই কাশি শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। হাঁচি, কাশির সময় টিস্যু, কাপড় দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

আইইডিসিআর-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,   ‘কোনও রোগীর হাঁচি-কাশি, মলমূত্র অন্যকারও সংস্পর্শে যাবে না। আর এজন্যই আইসোলেশন ওয়ার্ডে একই ধরনের একাধিক রোগী যদি থাকে, তাহলে এক বেড থেকে আরেক বেডের দূরত্ব কমপক্ষে এক মিটার হতে হবে। কারণ, হাঁচি-কাশি এক মিটারের বেশি দূরত্বে যায় না।’

আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের হাতে ভ্যাকসিন আসতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। তাই প্রতিষেধক হিসেবে একে প্রতিরোধ করার বিকল্প নেই। সচেতনতা, পারসোনাল হাইজিন আর ‘কাশি শিষ্টাচার’ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের অন্যতম এবং একমাত্র উপায়।’

ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা ‘করোনা ভাইরাসের বিশেষ কোনও চিকিৎসা নেই। মূলত এর জন্য লক্ষণ-উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অথবা সাপোর্টিভ চিকিৎসা দেওয়া হয়। করোনা ভাইরাসের যেহেতু কোনও প্রতিষেধক নেই তাই জীবনচরণগুলো যদি সঠিকভাবে মেনে চলি, সেক্ষেত্রে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে একজন সুস্থ মানুষের রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন , ‘এই সময়ে হ্যান্ড সেক, কোলাকুলি পরিহার করতে পারি। যেগুলোয় মানুষকে এক মিটারের মধ্যে নিয়ে আসে, সেই বিষয়গুলোয় যদি এক মিটারের মধ্যে আসাটা থেকে বিরত থাকতে পারি, সেক্ষেত্রেও কিন্তু করোনা ছড়িয়ে পড়াটাকে প্রতিরোধ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় রুমাল, টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। আর হাতের কাছে যদি কিছুই না পাওয়া যায়, তাহলে মুখের কাছে হাত এনে কনুইয়ের  ওপরিভাগে মুখ ঢেকে কাশি দিতে হবে। যেন কোনোভাবেই সেটা  বাতাসে না ছড়াতে পারে।একইসঙ্গে, ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে, অন্তত ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা যাবে না। ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন ও মেডিসিন বিষেশজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করোনার কোনও ভ্যাকসিন নাই, ওষুধ নাই। তাই একে প্রতিরোধ করতে হবে, এছাড়া আর উপায় নাই। আর প্রতিরোধ করতে হলে যেখানে-সেখানে থুথু ফেলা যাবে না। সর্দি-কাশি হলে রুমাল ও টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। আর অবশ্যই সাবান দিয়ে রুমাল ধুয়ে ফেলতে হবে। টিস্যু ব্যবহার করলে ব্যবহারের পর তা ঢাকনাযুক্ত বিনে ফেলতে হবে, যেন টিস্যু থেকে জীবাণু না ছড়াতে পারে।’

 

/এমআর/এপিএইচ/

লাইভ

টপ