ক্যানসার হাসপাতালে ‘অনিয়ম’ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

Send
বাহাউদ্দিন ইমরান
প্রকাশিত : ১৫:১১, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২১, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য কেনা অত্যাধুনিক ‘আর্টিফিশিয়াল রেসপিরেটরি ভেন্টিলেটর’ দীর্ঘ দিন ধরে ফেলে রাখার ঘটনায় ‘অনিয়ম’ পেয়েছে   তদন্ত কমিটি।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

আদালতে তদন্ত কমিটির পক্ষে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। অন্যদিকে মামলার রুলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য কেনা অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল রেসপিরেটরি ভেন্টিলেটর দীর্ঘ দিন ধরে ফেলে রাখার ঘটনায় কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে  প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। এছাড়া, সদ্য অবসরে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. মোয়াররফ হোসেনের অবসরকালীন পেনশন সুবিধা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন আদালত।

পাশাপাশি এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।তিন সদস্যের ওই কমিটির আহ্বায়ক হলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) মো. সিরাজুল ইসলাম। অপর দুই সদস্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. আমিনুল হাসান ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর ডা. মোজাফফর হোসেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের মতামত অংশে জড়িতদের অনিয়ম তুলে ধরে বলা হয়েছে:

তদন্তকালে গঠিত কারিগরি সাব-কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী আটটি আইসিইউ ভেন্টিলেটরের সব যন্ত্রাংশসহ আইসিইউ কক্ষে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু কোনোটাই বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য নয়। দীর্ঘ পুরনো বিধায় মেরামতযোগ্য নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়।

অ্যাফারেসিস মেশিনটি মেরামতযোগ্য। ব্র্যানকোসকোপ মেশিন দুটি সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগে সরবরাহ করা হয়। এর একটি ব্যবহারযোগ্য, অন্যটি শুরু থেকে ব্যবহার হয়নি, তবে মেরামতযোগ্য। এবিজি মেশিন একটি, মেরামতযোগ্য। অন্যটি রিয়াজেন্ট (Reagent) প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যবহারযোগ্য।

তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম সম্পর্কে আরও বলা হয়—

ক. মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি বিশেষত আইসিইউ ভেন্টিলেটরগুলো স্থাপন/ব্যবহারের মতো কোনও ভবন/কক্ষ নির্মাণের পূর্বে ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রথম প্রকল্প পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম গৃহীত কার্যক্রম যৌক্তিক হয়নি মর্মে প্রতীয়মান হচ্ছে।

খ. প্রফেসর ডা. এ এম এম শরীফুল আলম প্রকল্প পরিচালক এবং পরিচালক হিসেবে আইসিইউ ভেন্টিলেটরগুলো শর্ত সাপেক্ষে গ্রহণের অনুমোদন, সংরক্ষণের আদেশ এবং ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ না করার জন্য দায়ী মর্মে প্রতীয়মান হয়।

গ. প্রফেসর ডা. ওবায়দু্লাহ বাকী তার কার্যকালে আইসিইউ ব্যবহারের কোনও উদ্যোগ গ্রহণ না করার জন্য দায়ী।

ঘ. (১) প্রফেসর ডা. মো. হাফিজুর বহমান আনসারী, (২) প্রফেসর ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা ও (৩) প্রফেসর ডা. শামিউল ইসলাম স্বল্পকাল কর্মরত থাকায় এবং পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় তাদেরকে দায়ী করার অবকাশ নেই।

ঙ. প্রফেসর ডা. শামীম আহসান আইসিইউ ভেন্টিলেটর হস্তান্তরের পরে শুধুমাত্র প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করায় তাকে দায়ী করার কোনও অবকাশ নেই।

চ. প্রফেসর ডা. মো. মোয়াররফ হোসেন পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন পাঁচ বছর। আইসিইউ ভেন্টিলেটরগুলো মেরামতের জন্য পত্র যোগাযোগ করলেও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা সঠিক হয়নি।

এছাড়া, প্রফেসর ডা. মানস কুমার বসু আগস্ট ২০১২ সাল থেকে অ্যানেসথেসিয়া বিভাগে কর্মরত। তিনি ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আইসিইউ-সহ অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান হিসাবে সায়িত্ব পালন করছেন। বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালনকারী ডা. মানস বসু কর্তৃপক্ষকে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের বিষয়ে অবহিত করেননি বিধায় তিনিও আইসিইউ ভেন্টিলেটর অকেজো হওয়ার জন্য দায়ী।

এরপর আদালত এই তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে জড়িতদের বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেন।

এর আগে ‘অবহেলায় পড়ে আছে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল রেসপিরেটরি ভেন্টিলেটর’ শিরোনামে একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আদালত নজরে নিয়ে এই আদেশ দেন। ওই প্রতিবেদনটি আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক ও এম এমদাদুল হক আদালতের নজরে আনলে তা আমলে নিয়ে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দেন।

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ