বইমেলায় ধানমন্ডি-৩২ সড়কের ৬৭৭ নম্বর বাড়ির জানালায় বঙ্গবন্ধু

Send
হাসনাত নাঈম
প্রকাশিত : ০০:২৭, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:২৯, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা চলছে। আগামী ১৭ মার্চ তাঁর জন্মদিন। ওই দিন ঘটা করে শুরু হবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি মহান এই নেতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন। চলবে আগামী বছরের ২৬ মার্চ পর্যন্ত। পুরো বছরকে তাই সরকার ঘোষণা করেছে মুজিববর্ষ হিসেবে। তার রেশ পড়েছে বইমেলাতেও। এবারের বইমেলা উৎসর্গ করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে। স্টলগুলোতে তাঁর রচিত বইয়ের পাশাপাশি তাঁকে নিয়ে লেখা অসংখ্য বই প্রকাশ ও প্রদর্শন করা হচ্ছে। মহান এই নেতার জন্মকালকে মাথায় রেখে পুরো বইমেলাকে ভাগ করা হয়েছে চারটি ভাগে। তবে এর বাইরেও কিছু স্টল এনেছে আরও অভিনবত্ব। যেমন শোভা প্রকাশ ও সময় প্রকাশনী। এ দুটি স্টল দেখলে মনে হবে এগুলো যেন বঙ্গবন্ধুর বাড়ি!

বইমেলায় শোভা প্রকাশ এবং সময় প্রকাশনী স্টলের সামনে তাকিয়ে দেখা যায়, মেলায় আগতদের চোখ রীতিমতো আকর্ষণ করছে এ দুটি প্যাভিলিয়ন। এগুলোর ডিজাইন দেখে মনে হয় বঙ্গবন্ধু যেন এখনও বেঁচে আছেন। শোভা প্রকাশ-এর স্টলে প্রাণবন্ত বঙ্গবন্ধু জানালার ধারে বসে বই পড়ছেন। আর সময় প্রকাশনীর স্টলে যেন তিনি দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছেন। প্যাভিলিয়ন দুটির প্রকাশকেরা জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই প্রয়াস। 

শোভা প্রকাশের প্যাভিলিয়নটি খেয়াল করলে দেখা যাবে সাদা কালো রঙের ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ৬৭৭ নম্বর বাড়িটিই যেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তৈরি করা হয়েছে। বাড়ির সামনের অংশে রয়েছে বারান্দা। বারান্দার এক প্রান্তে টবে একটি গাছ রয়েছে। এক পাশের অংশে রয়েছে একটি জানালা। সেই জানালার পাশে বসে বঙ্গবন্ধু বই পড়ছেন। আর সময় প্রকাশনী স্টল খেয়াল করলে বোঝা যায়, রঙিন ঝকঝকে একটি বাড়ি। বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু হাত নেড়ে ইশারা করছেন। মেলার উভয় পাশকে আকৃষ্ট করতে বাড়িটির দুপাশের বারান্দাতেই রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছবি। বাড়ির ডিজাইন দেখে মেলায় আগতরাও থমকে দাঁড়িয়ে এক পলক দেখে নিচ্ছেন। তারা বলছেন, আর আট দশটা স্টলের ডিজাইন থেকে এই স্টলটির ডিজাইন ভিন্ন। 

শোভা প্রকাশের স্টলের নকশা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বাড়ির চিত্র এখানে ফুটে উঠেছে। দূর থেকে দেখে বোঝা যাচ্ছে জানালার ধারে বসে বঙ্গবন্ধু বই পড়ছেন। আরেকটা বিষয় বোঝা যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত বই এই প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাবে। মেলায় এটা একটি ইউনিক নকশা। 

বাড়ির নকশা দেখে ঝরনা নামের এক নারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নকশাটা অনেক সুন্দর হয়েছে। নকশাটাতে জাতির জনকের বাড়িকে তুলে ধরা হয়েছে এবং উনাকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আবার নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটা সুন্দর মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করে দেওয়ার এমন উদ্যোগ মাঝেমধ্যেই নেওয়া দরকার মনে করছি।

এ স্টলের নকশা সম্পর্কে শোভা প্রকাশের প্রকাশক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্যাভিলিয়ন পাওয়ার পর থেকেই মাথায় আসছিল এটায় কী ডিজাইন করা যায়। আর সামনে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। তিনিও মাথায় ছিলেন। তাই এই মহান নেতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার বাড়ির আদলটাকে তুলে ধরার ভাবনা আসে। সে আদলেই এটা নির্মাণ করা হয়েছে। একটা বিষয় হচ্ছে নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না তার বাড়িটা কেমন। আমার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের সাথে বঙ্গবন্ধুর বাড়িটাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। ডিজাইন এ আমি রোড নম্বর এবং বাড়ির নম্বরটা উল্লেখ করেছি। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে ভুলে না যায়।’

সময় প্রকাশনী সামনে দাঁড়িয়ে কথা হয় ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী উপমার সঙ্গে। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ডিজাইনটা অবশ্যই সুন্দর হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে প্রাণবন্ত লাগছে। যে কাউকে স্টলটির সামনে দাঁড়িয়ে একবার হলেও বঙ্গবন্ধুকে মনে করতে হবে। 

ব্যবসায়ী সজল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আশেপাশের ৮-১০ টি স্টল থেকে এই স্টলটি আলাদা। তাই সবার নজর কাটছে। মনে হচ্ছে বঙ্গবন্ধু হাত নাড়িয়ে আমাদেরকে ডাকছে। 

সময় প্রকাশন এর প্রকাশক ফরিদ আহমেদ বলেন, এ ডিজাইনটা বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়িকে মাথায় রেখে করা হয়েছে। যেহেতু এ বছরই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী তাই এটাতে কালার করা হয়েছে। আইডিয়াটা আমি তৈরি করেছি। আর কাজ করিয়েছি একজন শিল্পীকে দিয়ে। নতুন প্রজন্মের সামনে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরাই হচ্ছে উদ্দেশ্য।

 

/এনআই//টিএন/

লাইভ

টপ