কবিতার বই বেশি, বিক্রি কম

Send
হাসনাত নাঈম
প্রকাশিত : ০৩:২৪, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০৮, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

 

গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে অমর একুশে গ্রন্হমেলা। জানা গেছে, গত সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত কবিতার বই প্রকাশ হয়েছে ৭২০টি। তবে প্রকাশকরা বলছেন কবিতার বই বেশি প্রকাশ হলেও বিক্রি হচ্ছে কম। পাঠকরা গল্প, উপন্যাস, ও জীবনীমূলক বই বেশি কিনছেন। কবিতার বই সবচেয়ে বেশি হলেও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবি টোকন ঠাকুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বই প্রকাশের স্বাধীনতা আসায় কবিতার বই প্রকাশ হচ্ছে বেশি। ফেসবুকে যে লেখালেখি হয় সেগুলো  দিয়ে বই প্রকাশ করা যায়। ছাপা হওয়া সব বইকে আমি কবিতার বই বলবো না। ভালো কবিতার বই অত বের হয়নি। কবিতা যারা চর্চা করেন, কবিতার মধ্যে নতুন কিছু যারা আবিষ্কার করেন, সেরকম পাঠকের পিপাসা মেটানোর মতো কবিতার বইয়ের সংখ্যা সীমিত। বেশি কবিতার বই প্রকাশ হলেই সবগুলোকেই কবিতার বই হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘কবিতার সঙ্গে তরুণদের সম্পর্ক গভীর। প্রতিটি তরুণের মাঝে কিছু গোপন কথা আছে, কিছু দ্রোহ আছে, কিছু স্বপ্নভঙ্গের বেদনা আছে। সব নিয়েই কিন্তু কবিতা হয়ে ওঠে। সেই কারণে কবিতার সঙ্গে তরুণদের সম্পর্কটা বেশি।’

বই প্রকাশের সংখ্যা বিবেচনা করলে কবিতার সময় কি ফিরে আসছে— এমন প্রশ্নের জবাবে কবি আলতাফ শাহনেওয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন অনেক নতুন কবিরা কবিতা লিখছেন। তাদের কবিতার বই বিক্রিও হচ্ছে। যদি ফিরে আসার কথা বলেন, তাহলে বলবো আগের চেয়ে ভালোভাবে ফিরে এসেছে। তবে আমার মনে হয় না যে কবিতার বই কখনও হারিয়ে গিয়েছিল। আগে যে বিক্রি হতো না, এমনও না। কিন্তু এখন অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে অনেক নতুন নতুন কবি আসছে। তাদের অনেকের লেখাই অনেক ভালো।’ 

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তরুণরা কবিতায় বেশি আগ্রহী। ভালো লেখে-খারাপ লেখে সেটা বড় কথা নয়। ফেসবুকে সবাই লেখে। বই প্রকাশ করা খুব সহজ হয়ে গেছে। তাই বই ছাপা বেশি হচ্ছে। এবারের মেলায় সত্যিকার অর্থেই খেয়াল করেছি কবিতার প্রতি মানুষের আগ্রহ একটু হলেও বাড়ছে। আগে যেমন উপন্যাসের দিকে মানুষের ঝোঁক ছিল এখন তরুণদের কবিতার বইয়ের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে।’

তবে প্রকাশকরা বলছেন, কবিতার বই বেশি প্রকাশ হলেও বিক্রি তেমন হচ্ছে না। অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাঠক যে খুব বাড়ছে আমার কাছে তেমন মনে হয় না। তবে বই প্রকাশ দেখে মনে হচ্ছে কবির সংখ্যা বাড়ছে।  কিন্তু কবিতার পাঠক বাড়ছে বলে আমার মনে হয় না। সব বই মানসম্পন্ন না। যেগুলো মানসম্পন্ন বই সেগুলো পাঠক গ্রহণ করছে।’

সময় প্রকাশনীর প্রকাশক ফরিদ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত  বছরও মেলা শেষে বাংলা একাডেমির হিসাবে দেখা গিয়েছিল কবিতার বই বেশি প্রকাশিত হয়েছে। এবারও এখন পর্যন্ত কবিতার বইয়ের সংখ্যা বেশি। তবে সেই তুলনায় বিক্রি নেই। ছোটগল্প, উপন্যাস ও জীবনীমূলক বইয়ের চাহিদা বেশি।’ বাতিঘরের প্রকাশক দীপঙ্কর দাস বলেন, ‘মেলায় কবিতার বই বেশি খুব বেশি বলতে সেটা ২৫ শতাংশ হতে পারে। বই বেশি হলেও বিক্রি তেমন বেশি নয়।’

/এমআর/

লাইভ

টপ