যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের বিষয়ে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:১৩, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৩, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

ইউনাইট ফর বডি রাইটস্ (ইউবিআর) বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স আয়োজিত সভা

শিক্ষকদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের বিষয়ে দক্ষ করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, উন্নয়নসহ অনেক বিষয় জড়িত। তাই এ বিষয়ে সবার সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইউনাইট ফর বডি রাইটস্ (ইউবিআর) বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স আয়োজিত সভায় এসব কথা বলেন আলোচকরা।

সভায় অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আক্তার বলেন, শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ নিলেও সামাজিক জড়তার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেন না। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে লজ্জা পান। তাই প্রশিক্ষণকালে তাদের অনুশীলন করাতে হবে। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেন অধ্যাপক তাহমিনা।

মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর বলেন, কৈশোর উন্নয়নে বাংলাদেশ অনেক অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু এখনও আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারিনি। সেজন্য যুব সমাজকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। সেক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরী ও যুবদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার এবং সহিংসতামুক্ত সহায়ক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মশিউর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে ৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতিতে ফিরতে হবে। শিক্ষার্থীরা এখন পাঠ্যপুস্তক থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি সময় কাটায়। কিন্তু সেখানে মৌলবাদী-জঙ্গিদের বিভ্রান্তিকর প্রচারণাই বেশি। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতেও সুশিক্ষার বিষয়ে প্রচারণা চালাতে হবে।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে বলা হয়, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের জেন্ডার সংবেদনশীল যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং অধিকার সংক্রান্ত শিক্ষা দেওয়ার জন্য যথাযথ দক্ষ করে তুলতে হবে। ব্যাচেলর অব ফিজিক্যাল এডুকেশন (বিপিএড) কোর্স ও মাধ্যমিক পর্যায়ের যে সব শিক্ষক-শিক্ষিকা শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক পাঠদান করেন তাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। একইসঙ্গে তাদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

পপুলেশন সাইন্স অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তুক বোর্ডের সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সালমা আক্তার, অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আক্তার ও অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান, টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মমতাজ শাহানারাসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর।

 

/এসএমএ/এমআর/

লাইভ

টপ