ঢাবি অ্যাকাডেমিক সভায় শিক্ষকের মন্তব্যসান্ধ্যকোর্স বন্ধে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ‘সুইপিং কমেন্টস’

Send
সিরাজুল ইসলাম রুবেল
প্রকাশিত : ২২:০১, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৯, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সান্ধ্যকোর্স রাখা-না রাখার বিতর্কে এর পক্ষে মত দিয়েছেন বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষকরা। অন্য কিছু বিভাগের শিক্ষকও তাদের সঙ্গে একমত। আজ সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত অ্যাকাডেমিক সভায় বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হন তারা। তবে এই বিতর্কে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান কার্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

পরে অ্যাকাডেমিক সভার সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে এধরনের মন্তব্য করা অনুচিত বলে ওই শিক্ষককে থামিয়ে দেন।

হাফিজুর রহমান কার্জন অ্যাকাডেমিক সভায় বলেন, ‘মাননীয় রাষ্ট্রপতি যে কথাটা (সান্ধ্যকোর্স বন্ধ করার আহ্বান) বলেছেন, আমি ওনাকে খুব ভালোবাসি।  কারণ, তিনি অনেক শেকড় থেকে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। কিন্তু তিনি মাঝেমধ্যে বিশেষায়িত বিষয়গুলো নিয়ে যে সুইপিং কমেন্টস করেন, সেটা একটা সমস্যা। এবং আমি মনে করি, রাষ্ট্র কিংবা সরকার সান্ধ্যকালীন যে কোর্স সেটিকে র‌্যাশনালাইজ করতে চায়, এক্ষেত্রে আমাদের যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। আমার যতটুকু মনে পড়ে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন আহমেদকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিটি হয়েছিল, সেখানে তিনি সুপারিশে বলেছিলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব অর্থায়নে চলবে। ইউজিসিও একই কথা বলেছে। এখন যদি আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে যেতে চাই, তাহলে তো করপোরেট কিছু করতে হবে। আমাদের শিক্ষার যে কার্যক্রম সেটাকে আমরা এক্সটেনশন করেই সান্ধ্যকোর্স চালু রেখেছি। ইতোমধ্যে সে কথাগুলো আলোচনা হয়েছে। সান্ধ্যকোর্স বন্ধ করলে সব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও করতে হবে।’

তখন উপাচার্য বলেন, ‘মহামান্যের কথার ওপরে কথা না বললেও চলবে।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে এসে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সান্ধ্যকোর্সের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশন সান্ধ্যকোর্সের বিষয়ে কঠোর হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় বিশ্লেষণ ও বিতর্ক। এরইমধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সান্ধ্যকোর্স বন্ধের কথা জানিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও রাষ্ট্রপতির বক্তব্যকে সমর্থন দেন। তিনি সান্ধ্যকোর্সের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ইউজিসিকে কঠোর হতে বলেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি সান্ধ্যকোর্সে সাময়িকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ‘সান্ধ্যকোর্স যৌক্তিকতা যাচাই কমিটি’। কমিটির প্রতিবেদনের বিষয় অ্যাকাডেমিক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সান্ধ্যকোর্স যৌক্তিকতা যাচাই কমিটির আহ্বায়ক ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ সভার বিরতিতে বের হয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সান্ধ্যকোর্সের বিপক্ষে বলতে গেলেই অনেকে ‘শেইম’ ‘শেইম’ করে চিৎকার দিয়ে উঠে। বিশ্ববিদ্যালয় হলো শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু, দিনের বেলা তাদের কোনোরকম শিক্ষা দিয়ে রাতের বেলা টাকার জন্য বাইরের শিক্ষার্থীদের ভালো সেবা দিতে রাজি তারা। আমরা কমিটির সদস্যরা সভার শেষে যুক্তি উপস্থাপন করবো।’

এই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি দেখা গেছে। জানা গেছে, সান্ধ্যকোর্স চালু রাখতে সোচ্চার রয়েছেন বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষকরা। তাই তাদের সর্বোচ্চ উপস্থিতিতে ভরপুর সিনেট ভবনের হলরুম।

/এসআইআর/টিএন/এমএমজে/

লাইভ

টপ