খালেদা জিয়ার জামিন খারিজ নিয়ে যা বললেন আদালত

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৪৮, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৬, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবিজিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত তার আদেশে বলেছেন, খালেদা জিয়া একজন দণ্ডিত ব্যক্তি। সাধারণ মানুষ আদালত থেকে যে ধরনের সুবিধা পাবেন, দণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে খালেদা জিয়া সেই সুবিধা পাবেন না।
খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার আদেশে এসব মন্তব্য করেন।
আদালত আরও বলেন, এর আগেও তার (খালেদা জিয়া) জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। এবারের আবেদনে নতুন কিছু পেলাম না। এ কারণে জামিন আবেদনটি খারিজ করা হলো।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, বিএসএমএমইউ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) দেশের সেরা হাসপাতাল। মেডিক্যাল বোর্ড হাইকোর্টে যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে তার কোথাও উল্লেখ নেই যে তারা খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা দিতে সক্ষম নন। আমরা মনে করি, খালেদা জিয়া সম্মতি দিলে সেখানেই তার চিকিৎসা শুরু হতে পারে। উনি যদি সম্মতি দেন তাহলে যেন তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার জন্য গঠিত বোর্ড চাইলে বোর্ডে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ। তাদের সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন, মো. মাসুদ রানা, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার পক্ষে এ জামিন আবেদন করা হয়।
এ জামিন আবেদনে বলা হয়, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ এবং তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। বিএসএমএমইউ হাসপাতালে তার উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না। তাই জামিন পেলে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) যাবেন।
তবে এর আগেও চ্যারিটেবল মামলায় ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করেছিলেন।
এরপর ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন তার আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১ হাজার ৪০১ পৃষ্ঠার ওই আপিল আবেদন দাখিল করা হয়। ওই আপিলের শুনানি নিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন চেয়ে আদেশ দেন আপিল আদালত। তবে শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার জামিন দেননি আপিল বিভাগ।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে দুই মাসের মধ্যে ওই মামলার নথি তলব করেন।
এরপর ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। গত বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়।
২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।

আরও পড়ুন...
জামিন পাননি খালেদা জিয়া

/বিআই/এইচআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ