এক ঘণ্টায় কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল: আইইডিসিআর

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:০১, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৬, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

ব্রিফিংয়ে ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাকরোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশকে একটি মেশিন দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এই মেশিনে এক ঘণ্টার মধ্যে কোভিড-১৯ টেস্টের রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সরকারের কাছে মেশিনটি হস্তান্তর করা হয়েছে। মেশিনটি আইইডিসিআরে স্থাপন করা হবে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কোডিভ-১৯ নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘এই মেশিনে এক ঘণ্টার মধ্যে কোভিড-১৯ টেস্টের রিপোর্ট পাওয়া যাবে।’ সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর।

চীনের চেয়ে বাইরের দেশে রোগী বেশি

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই প্রথম চীনের বাইরে বেশি রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে। ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত চীনসহ মোট ৩৮টি দেশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় নতুন সংযুক্ত হওয়া দেশের মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৮১ হাজার ১০৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৭১ জন। মারা গেছেন দুই হাজার ৭৬১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ৬১ জন।’

তিনি বলেন, ‘চীনে এখন মোট রোগীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ৮৯১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় চীনে আক্রান্ত হয়েছেন ৪১২ জন। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মারা গেছেন দুই হাজার ৭১৮ জন, এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মার গেছেন ৫২ জন।’

ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘চীনের বাইরে মারা গেছেন ৪৩ জন। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যান ৯ জন।’ তবে এতদিন চীনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই প্রথমবারের মতো চীনের বাইরেও রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। নতুন দেশের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে সেসব দেশের কথা তাদের স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে জানলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এসব দেশের আক্রান্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। এ কারণে আমরাও সেটা বলছি না।’

বাংলাদেশের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালির পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ইতালিতে কোনও বাংলাদেশি আক্রান্ত নন

ইতালিতে বাংলাদেশি কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি— সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে পাঁচ রোগীর মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। বাকি তিন জনও সুস্থ। যেকোনও সময় তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আরেকজন রোগী, যিনি আইসিইউতে ছিলেন, তার সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ইম্প্রুভ করেছেন। এখনও তিনি ক্রিটিক্যাল কেয়ারে আছেন। তবে তার পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। একইসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যে বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল বলেও জানান ডা. ফ্লোরা।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত নেই

দেশের সব বন্দরে স্ক্রিনিং কার্যক্রম চলছে জানিয়ে ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘আইইডিসিআর হটলাইনে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪টি কল এসেছে। এরমধ্যে ৭০টি কল কোভিড-১৯ নিয়ে। বুধবার দুজন সরাসরি এসেছেন এ বিষয়ে সেবা নিতে। একইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় একটি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় কোনও কোভিড-১৯ পাওয়া যায়নি।’

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালেও একজন রোগী নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সাত ধরনের করোনা ভাইরাসের কথা জানি। এরমধ্যে কিছু করোনা ভাইরাস আছে, যেগুলো কমন ফ্লু’র মধ্যে থাকে। সেগুলো কিন্তু শীতকালে থাকেই। এর মধ্যেই একটি হচ্ছে 229E, এটা শীতকালীন যে ঠান্ডাকাশি হয় তারই একটা। আজকের আসা ওই রোগী এতে আক্রান্ত হয়েছেন। এটা কোভিড-১৯ নয়। আর তিনি এই ভাইরাস থেকেও এখন মুক্ত। তিনি অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’

উহান থেকে ভারতে আসা ২৩ বাংলাদেশি কোয়ারেন্টাইনে

চীনের উহান থেকে ২৩ বাংলাদেশিকে ভারতে নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘দিল্লি থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা সুস্থ আছেন। তাদের মধ্যে করোনার কোনও লক্ষণ বা উপসর্গ নেই। ১৪ দিন সেখানে রাখার পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বা দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ দূতাবাস ভারত সরকারের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে তাদের দেখাশোনা করছে।’ ভারত সরকার তাদের কী ভেবে আনলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু তাদের ফ্লাইটে আসার সুযোগ ছিল, তাই আমাদের সরকার আলোচনা করে তাদের আনার ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাচ্ছে। প্রথমবার যখন ৩১২ জনকে আনা হলো, তারপর সেই বিমান ১৪ দিন পর্যন্ত কোথাও যেতে পারেনি। তবে এসব কাজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করে থাকে। তারাই আমাদের চেয়ে ভালো জবাব দিতে পারবে। তবে কোনও সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত নয়। কারণ, পরিস্থিতি প্রতিদিনই পরিবর্তন হচ্ছে।’

প্রস্তুতিতে আস্থা রাখার অনুরোধ

করোনার কথা শুনলেই যেন বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত না হই মন্তব্য করে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘যদি এন করোনা বা কোভিড-১৯ না হয়, সেক্ষেত্রে যেকোনও রোগী দেখলেই করোনা আক্রান্ত হয়েছে বলে আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।’

সচেতন-সতর্ক-সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আতঙ্কিত হবো না। আতঙ্কিত হলে মানুষ বেশি নার্ভাস হয়ে পড়বে।’

দেশের এবং বাইরের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের প্রস্তুতির ওপর আস্থা রাখুন, সবার প্রতি এ অনুরোধ জানান অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা।

/জেএ/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ