হুমায়ুন আজাদ হত্যার বিচার দাবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:১৯, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৩, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

লেখক হুমায়ুন আজাদ হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও লেখক-প্রকাশকরা। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এই দাবি জানান তারা।
সমাবেশে হুমায়ুন আজাদের মেয়ে মৌলি আজাদ বলেন, ‘আমি পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে বলতে চাই, এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, তাদের কাছে যেন বার্তাটি যায় যে হুমায়ুন আজাদের পরিবার তার হত্যার বিচার চায়। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা আমার আব্বার হত্যার বিচার করুন।’
হুমায়ুন আজাদের ভাই সাজ্জাদ কবির বলেন, ‘এই বাংলা একাডেমিতে অনেকের নামে অনেক মঞ্চ আছে, কক্ষ আছে। আমরা চাই, এখানে হুমায়ুন আজাদের নামে কিছু একটা করা হোক। এর পাশাপাশি হুমায়ুন আজাদ হত্যার বিচার চাই আমরা।’
সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর বলেন, ‘অন্যান্য সবার মতো আমিও হুমায়ুন আজাদের হত্যার বিচার চাই। আমরা যারা রণসংগীত শিল্পী আছি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সবার পক্ষ থেকে আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’
অন্যপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘একজন লেখককে হত্যার চেয়ে জঘন্য কিছু আর হতে পারে না। আমরা অবিলম্বে হুমায়ুন আজাদের হত্যার রায় দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘আমি হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার সাক্ষী। আমি আর রফিক আজাদ সাক্ষ্য দিয়েছিলাম পাঁচ-ছয় বছর হয়ে গেলো। মামলার রায় এখনও হয়নি। আমি বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের কাছে অনুরোধ জানাই, আমাদের এভাবে বঞ্চিত করবেন না। আমরা সবাই যেন হুমায়ুন আজাদ হত্যার বিচার পাই। গত ১৬ বছর ধরে আমরা এই দাবি করে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে হুমায়ুন আজাদের নামে কিছু একটা তৈরি করার দাবি এসেছে। এটি অবশ্যই যথার্থ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বাংলা একাডেমি।’
সমাবেশে কবি কাজী রোজিসহ লেখক প্রকাশক পাঠক ফোরামের সভাপতি ওসমান গনি ও হুমায়ুন আজাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে বাংলা একাডেমির উল্টোদিকে ফুটপাতে সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্মক আহত হন লেখক হুমায়ুন আজাদ। এ হামলায় পর তিনি ২২ দিন সিএমএইচে এবং ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসা নেন। ওই বছরের ১২ আগস্ট তিনি জার্মানির মিউনিখে মারা যান। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান (সিআইডির পরিদর্শক) ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

/এসও/এইচআই/

লাইভ

টপ